লজ্জা *

* লজ্জা *
--------সত্য রঞ্জন বণিক
---------------------------------
একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী অহনা,
কামনার আগুনে শিকার।
ধর্ষিতা।
অশ্রুভেজা চোখে,
স্বপ্ন আশাহীনতার তিমিরে ঝাপসা ধূসর।
লজ্জায় মুখ ঢাকে।
লজ্জা!ধর্ষিতা অহনার লজ্জা নয়!
এই লজ্জা হওয়া উচিৎ তোমার আমার।
আমরা সমাজের অভিভাবক হয়েও
মেয়েটির সম্ভ্রম রক্ষায়।
সামান্য নিরাপত্তা দিতে পারিনি।
আমরা সভ্য সমাজের শিক্ষিত পুরুষ!
আমরা উষ্ণ চায়ের কাপে
ধর্ষণের খবর উপভোগ করি।
আমরা নির্লজ্জ বেহায়ার মতো বিকালের আড্ডায়,
ধর্ষণের সমালোচনার ঝড় তুলি,
সিগারেটের ধোঁওয়ায়।
কখনই প্রতিবাদ করিনা।
অনুভব করিনা ধর্ষণের মর্মান্তিকতা।
স্বার্থপরের মতো উপেক্ষা করি,
ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ।
অহনা, এই লজ্জা তোমার নয়!
এই লজ্জা সমস্ত কাপুরুষ, ভীরু পুরুষের-----

"নারী হয়ে ওঠা......"

Debjani Mondal

"আমার অনেক দিনের চেনা শরীরের ভেতর
আস্তে আস্তে বেড়ে উঠছে আশ্চর্য একটা চারা গাছ,
আমার অন্ত্র থেকে ধীরে ধীরে শুষে নিচ্ছে সমস্ত প্রাণরস।
আমার বুকের মাঝে বাড়ছে,
আমার ভেতরে বিস্তৃত করে চলেছে তার শাখা প্রশাখা,
আমার একান্ত চারা গাছটা
হয়ত এখন বাঁচতে শেখেনি একা একা;
তাই মধ্য রাতে যখন বাতাসের সাথেসে নাচতে চায়-
তীব্র যন্ত্রণায় কুঁকড়ে উঠি আমি।

একটা সত্যিকারে শিশু বেড়ে উঠছে আমার ভেতর,
আমার অহংকার হয়ে
সারা পৃথিবীর কাছে তুই আজও বিস্ময়,
এসেছিস আমার নারীত্বকে পূর্ণ করতে .....।"

দাম


পায়েল খাঁড়া

বাপের খোঁটা আর মায়ের আক্ষেপগুলো শুনতে শুনতে অসহ্য হয়েই লেখার খাতাগুলো রদ্দির দোকানে বেচতে গিয়েছিল অতীন।
-মিডিল ক্লাসের ছেলে কোথায় মুখে দুটো ভাত তোলার জোগাড় করবি; তা নয় বাপের ঘাড়ে খাচ্ছেন আর দিন রাত কাব্যি ফলাচ্ছেন—কুলাঙ্গার কোথাকার’ বাবার কথাগুলো তখনও অতীনের কানে বাজছিল আর ঝাঁঝরা করে দিচ্ছিল ওর স্নায়ুকে।
খাতাগুলোকে পাল্লায় চাপিয়ে মনে হল__কাগজ নয় যেন নিজের কলজেটাকেই বুক থেকে উপড়ে ওজনযন্ত্রে রেখেছে।
দোকানদার পঞ্চাশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল আপনার খাতাগুলোর দাম। একটা মুখ ভেসে উঠল অতীনের সামনে,
-অতীনদা তুমি একদিন খুব বড় লেখক হবে, আমার বিশ্বাস।
পনের বছর পর—অতীনের হাতে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার তুলে দিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি।

আকাশের ঠিকানায় পাঠানো চিঠি


সন্দীপ মন্ডল
আকাশ , সব শেষে তোমার ঠিকানায় চিঠি পাঠালাম ,
তুমি মেঘদের বলে দিও......
তারা যেন ঝরে পড়ে আমার প্রিয়সীর গায়ে । 
আকাশ জানো সে আজ ভালো নেই ,
থাকলে কি উত্তর দিত না ?
তাই বলি আকাশ তুমি মেঘদের বলে দিও ....
তারা যেন ঝরে পড়ে আমার প্রিয়সীর গায়ে ।
তিনশ দশ নম্বর চিঠিটা তোমায় দিচ্ছি আকাশ ,
কেন জান ? কারণ শুরু থেকে তিনশ নয় নম্বর চিঠির কোনো উত্তর আমি পায়নি ।
 আচ্ছা , আকাশ তুমি তো সব দেখতে পাও , তাই না ?
তাহলে বলতো , প্রিয়সী আজ কেমন আছে !
জান ও আমায় বলেছিল আমাদের আর কোনোদিন দেখা হবে না ,
সেদিন কথার মার প্যাঁচ আমি বুঝে উঠতে পারিনি ,
তাই আকাশ তোমার ঠিকানায় চিঠি পাঠাচ্ছি ,
তুমি মেঘদের একটি বার বলে দিও...
তারা যেন ঝরে পড়ে আমার প্রিয়সীর গায়ে ।

#মন_তুই_ভালো_থাক


সারাদিন প্রাইভেট চাকুরীতে অক্লান্ত পরিশ্রম...রাত ১০টায় বাড়ি ফেরা....তাও মেয়েটি রাত ৩ টে what's app এর নামহীন নম্বরটির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে....এই বুঝি ফুটে উঠলো "online"....এই বুঝি ভেসে আসলো আগের মতো, দুই লাইনের কবিতা বা "কেমন আছিস? দিন কেটে যায়....মাস ফুরিয়ে যায়....আসেনা....contact list এর ১৫০ মানুষ জানতে পারে না.....মেয়েটার মন খারাপ......
ছেলেটা ফেবুতে শুধু বিরহের কবিতা লিখতো....পেত অকুন্ঠ মানুষের প্রশংসা...অনেক মানবীর নিবেদন ও....কিন্তু তার মন যে.... সেই মানুষীর মনে! যাকে সে ব্লক করে রেখেছে, প্রতারণার দায়ে...মাঝেমাঝে সে চুপিচুপি ব্লক খোলে, আর দেখে অনুতাপের শব্দ তারজন্য সাজানো কিনা....হঠাৎ সে দেখে, সেই মানবী "in a relationship".....ছেলেটি ছেড়ে চলে যায় ফেবু...কেউ জানতে পারেনা, ছেলেটার মন খারাপ.......
বছর ৩০ এর সদা হাস্যময় মেয়েটা, নিজের মাসতুতো বোনের বিয়েতে যেন প্রজাপতির মতো উড়ছিল....কত কাজ বাপরে বাপ!! তার উপর বিকেলে খুব সুন্দর করে সাজতে হবে। সাজার ঘরে ঢুকতে যাবে,ঘরে ঢোকার সময়,শুনতে পেল তার মাসির গলা," টুসির বয়স তো ৩০ পেরিয়ে গেল! এখনো ছেলে জোগাড় হলনা! কে জানে বাইরে কি সব করে বেড়াচ্ছে?" .... মেয়েটি ছুটে গিয়ে বাথরুমে কাঁদতে লাগলো.... এত আত্মীয় কিন্তু কেউ জানতে পারলো না,মেয়েটার মন খারাপ......
রাস্তায় দেখা বন্ধুর সাথে,সাথে ছোট ছেলে।
"কীরে অমল তোর ছেলেরা কী করছে? আমারটা তো বিদেশে চলে গেল"...
"বড়টা চাকরী পেল সরকারী, ছোটটা চেষ্টা করছে...কী হবে কে জানে! অপদার্থ"
অসাধারণ আবৃত্তি জানা,গান জানা,থিয়েটার করা কিন্তু বেকার ছেলেটার মুখ নীচু....রাস্তার কেউ জানলো না,ছেলেটার মন খারাপ......
হোটেলম্যানেজমেন্ট পড়া, অসম্ভব সরলমনের কর্মঠ ছেলেটা,তখন প্রবল উন্নতির দোড়গোড়ায়। হঠাৎ খবর পেল তার প্রমোশন আটকে গেছে। সৌজন্যে তার বস। যাকে সে গুরু ভাবতো। বিশ্বাস করতো। মাঝরাতে বুকে পাথর নিয়ে,সে রেজিগনেশন লেটার লিখতে বসলো....কেউ জানতে পারলো না....ছেলেটার মন ভালো নেই....
লাস ভেগাসের ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁ। অফিসের বন্ধুদের হুল্লোড়...খাবার অর্ডারে এলো পেল্লাই চিংড়ি, শুধু সেদ্ধ। আর বহুমূল্য ওয়াইন। বছর ২৭ এর বোকা ছেলেটা, প্লেটের দিকে তাকিয়ে ফিরে যেতে লাগলো.... পাড়ার রঘুদার ঠেকের আড্ডাতে, ১০ টাকার ঘুগনিতে, কাউন্টারের বিড়িতে...বাংলা খেয়ে তুমুল ঝগড়াতে,আবার ফিরে পাওয়া বন্ধুত্বে....মায়ের বানানো চিংড়ির মালাইকারী আর আঁচলে লেগে থাকা হলুদ দাগে.....চারিদিকে বয়ে চলা উদ্দাম বিলাসী স্রোতের কেউ জানলো না....ছেলেটার মন খারাপ....
গোলগাল চেহারার, সদা উচ্ছল মেয়েটা, খেতে বড় ভালোবাসতো। আজ তার মুখে খাবার তুলতে ভালোলাগেনা,বন্ধুদের সাথে কথা বলতে ভালোলাগেনা। কেউ যদি প্রশ্ন করে, "কী রে! তুই এত রোগা হলি কী করে? চোখের তলায় কালি?".. মেয়েটি বিষন্ন হেসে বলে, " ডায়েটিং করছি। কাজলটা বেশী দেওয়া হয়ে গেছে.....কেউ জানতে পারেনা, মেয়েটি ধারালো ব্লেডটাকে প্রতিরাতে কব্জির কাছে নিয়ে যায়....তার মন ভালো নেই.....
রাতে মদ্যপ স্বামী ঘরে ফেরে, চলে অকথ্য গালিগালাজ কখনওবা মার। তাও স্বামীকে খাবার বেড়ে দেয় মেয়েটি। তারপর ঘুমন্ত স্বামীকে পাশে রেখে,ফেসবুক খোলে । চোখ পড়ে এক সুখী দম্পতীর ছবিতে,কমেন্ট দেয় "এই ভাবেই থাকিস তোরা দুজনে সুখী হয়ে"....নিঝুম শহর জানেনা, তার মন খারাপ।
উচ্চাকাঙ্ক্ষী জীবন দিতে তার বউকে ব্যর্থ ছেলেটি। তাই একদা প্রেমিকা পরে বউ, পাড়ি দিয়েছে অন্য কারো হাত ধরে, বিলাসী জীবনের সন্ধানে, ছেড়ে রেখে গেছে তার বছর পাঁচের মেয়েকেও। তাও প্রতিবার মেয়েকে জড়িয়ে ধরার সময়, বুক ভরে ঘ্রাণ নেয় ছেলেটি কারন, "গন্ধটা অবিকল ওর মতো ".....মেয়ে জানতে পারেনা, বাবার মন ভালো নেই।
বন্ধুদের সাথে পিকনিক করতে এসে,"ভালোবাসি ভালোবাসি" গেয়ে ওঠে মেয়েটি.....কেউ জানেনা মেয়েটিকে বছর খানেক বাপের বাড়িতে সন্তান সহ রাখা, স্বামীটির আজ জন্মদিন। আর শত কষ্ট মুখ বুজে মেনেও, মেয়েটির আজ প্রবল ইচ্ছা একটু বলে," শুভ জন্মদিন"....পিকনিকের কেউ জানতে পারেনা...মেয়েটার মন ভালো নেই।
গড়পড়তা বিয়ের, বছর দশ পড়ে মেয়েটি বুঝতে পারে। দাম্পত্য আসলে এক অভ্যাস। তাতে ভালোবাসার উন্মাদনা, প্রেমের আকুতি নেই। ওই ছেলেটা হঠাৎ এসে পড়ে জীবনে। ভরে ওঠে জীবন। সমাজের কাছে পরকীয়া, তারকাছে ভালোবাসা। স্বামীর সাথে সঙ্গমের সময়,সে ভাবতে থাকে অন্য মুখ....চরম মুহূর্তরাও জানতে পারেনা....মেয়েটির মন ভালো নেই.....
* আসলে আমরা সবাই প্রতিনিয়ত, বাঁচি ছোট -বড় অজস্র মন খারাপ নিয়ে। কিছু ক্ষত থাকে দগদগে,কিছু সারার পর চিনচিনে ব্যথাটা থেকেই যায়। WHO এর মতেও আগামী বিশ্বে যে রোগটি মহামারীর আকার ধারণ করবে, তা ক্যান্সার বা অন্য কোনো রোগ নয়, তা হলো "ডিপ্রেশন"। তাই বই, গান, সিনেমা, বিরিয়ানি, কাউন্সিলিং বা অ্যান্টিডিপ্রেশান্ট ওষুধ..সব থাকুক, কিন্তু ভারচুয়াল বা বাস্তবে এমন অন্তত একটি বিশ্বাসযোগ্য মানুষ থাকুক যাকে বলা যাবে...মন খুলে বিষাদ কথা।
Collected

একুশের নারী

পায়েল খাঁড়া

একুশের নারী
নিঃশ্বাস জুড়ে জ্বলুক আগুন
যুদ্ধ দিতে রাজি,
‘ঘরোয়া লক্ষী’ ঘুমোক, আজ
এসো রণরঙ্গিণী সাজি।

ভুলিনি আজও শেকড়ের টান
আকাশ ছুতেও পারি,
বোলোনা আমায় অবুঝ অবলা
আমি একুশের নারী!
আলতুসে তনু,নেকাপনা করে
দৃষ্টি টানতে জানি,
আবার প্রয়োজনে হতেও পারি
দাপুটে ঝাঁসির রানি।
আমার মোহেই রসাতলে যুগ
আমার হাতেই সৃজন
আমি রাঁধি_চুলও বাঁধি
কিছুতেই নই কম।
আমায় নিয়ে গর্বিত আমি
নই তো অহংকারী,
আমার কাঁধেও যুগের জোয়াল
আমি একুশের নারী।

***গঙ্গা নদীর জলের গুরুত্ব: বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ****

Jayanta Ray

--------------------------------------------------------------------
১. গঙ্গাজলের ব্যাকটেরিয়া বিরোধী স্বভাব :
হিন্দুরা গঙ্গাজলকে সবসময় পবিত্র ও পানযোগ্য বলে বিশ্বাস করে আসছে। হিন্দুধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে (জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি) গঙ্গাজলকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে দেখা হয়। কিন্তু এটা প্রমাণ করার সত্যিকার অর্থে কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে কিনা?
১৮৯৬ সালে ব্রিটিশ ব্যাকটেরিয়াবিদ আর্নেস্ট হ্যানবুরি হ্যানকিন গঙ্গাজলকে পরীক্ষা করে একটি প্রবন্ধ লেখেন যা এ প্রকাশিত হয়। এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, কলেরা রোগের প্রধান কারণ ব্যাকটেরিয়া জীবাণুকে গঙ্গাজলে রেখে দিলে তা তিন ঘন্টার মধ্যে মারা যায়। টিক এই ব্যাকটেরিয়াই আবার ছেঁকে নেয়া জলে আটচল্লিশ ঘণ্টা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করতে থাকে।
একইভাবে ১৯২৭ সালে ফরাসী বংশো™ভূত কানাডিয়ার অণুজীববিদ কলেরা ও ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া লোকদের ভাসমান দেহের কয়েক ফুট নিচ থেকে সংগৃহীত জলে কোন জীবাণু না পেয়ে বিস্মিত হন। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ভাইরাসের উপস্থিতিকেই গঙ্গাজলের গুণ ও পবিত্রতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
২. গঙ্গার পঁচন বিরোধী উপাদান :
নদীর জল সাধারণত পঁচে যায় যখন অক্সিজেনের অভাবে ব্যাকটেরিয়া জন্ম দেয় যা জলকে একটি ভিন্ন গন্ধ ও পঁচা স্বাদ প্রদান করে। গঙ্গা জলকে যদিও সবচেয়ে ময়লাযুক্ত বিবেচনা করা হয়। অনেকদিন ময়লায় ভরে থাকলেও এর জল পঁচে না।
প্রকৃতপক্ষে, ব্রিটিশ চিকিৎসক সি. ই নেলসন নিরীক্ষা করে দেখছেন যে, গঙ্গার অন্যতম অপরিস্কার জায়গা হুগলী নদী থেকে ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়া জাহাজ কর্তৃক সংগৃহীত জল পুরো যাত্রাপথ জুড়েই নির্মল, পরিষ্কার ও সতেজ ছিল। একারণেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জাহাজগুলো ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়া সময় তিন মাসের পানীয় জল হিসেবে শুধুই গঙ্গাজল ব্যবহার করত। কারণ এটা থাকত স্বাদু ও সজীব।
নয়া দিল্লীর ম্যালেরিয়া গবেষণা কেন্দ্র (Malaria Research Centre) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, গঙ্গার উপরিস্তরের জলে মশা জন্মায়নি এবং এজল যখন অন্য জলের সাথে যুক্ত করা হলে সেখানেও মশার বংশবৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করত।


দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ


Tanmoy Shome

16 june ......................আজ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর তিরোধান দিবস । এর লেখনীর মধ্যে দিয়ে পণ্ডিত,ভদ্র রাজনীতিবিদ, বিখ্যাত ব্যরিস্টার ও নেতাজীর গুরু কে ফুলেল শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি । মাত্র 54 বছরের জীবন আর সেই জীবনে তিনি মহান হয়ে আছেন বাঙ্গালীর মধ্যে।রাজনীতি করতেন দেশের সেবার কথা ভেবে আর তাই কোন আপোষ করতেন না তিনি । ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভূবনমোহন দাশ, তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ‘সলিসিটার ছিলেন।চিত্তরঞ্জন ১৮৮৫ সালে তিনি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করেন ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৯০ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে যান ও ১৮৯৪ সালে ব্যারিস্টার হয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন । কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসাবে সুনাম অর্জন করেন এবং আলীপুর বোমা মামলায় অভিযুক্ত শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ও অনন্যারা বিপ্লবীদের হয়ে মামলায় নৈপুণ্যের পরিচয় দেন এবং রাজ-শক্তি অরবিন্দ ও অন্য বিপ্লবীদের বেকসুর খালাস দিতে বাধ্য হয় ।এছাড়া তিনি ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলার (১৯১০-১১) বিবাদি পক্ষের কৌশলী ছিলেন
তাঁর রাজনৈতিক জীবন খুবই ছোট কিনতু তার প্রভাব বিস্তর । বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও অনুশীলন সমিতির মতো গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি নিজে কে যুক্ত করেন। অসহযোগ আন্দোলণে নিজে কে যুক্ত করেন গান্ধীর আহ্ববাণে আর পুরোপুরি আইনজীবীর পেশা পরিত্যাগ করেন । কিনতু ১৯২১ সালে যখন আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন তখন সি.আর দাশ তার তীব্র সমালোচনা করেন ও বিষয়টি গুরুতর ভুল ও দেশের পক্ষে ক্ষতিকর বলে নিন্দা করেন ও গাঁধী জির অদূরদর্শীতার নিন্দায় মুখর হন ।এছাড়া কংগ্রেসের আইন পরিষদ বর্জনের নীতিকে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করতেন যে, সরকারকে অবিচল, অবিচ্ছিন্ন ও দৃঢ়ভাবে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আইন পরিষদে প্রবেশাধিকার অর্জন করা অবশ্যই দরকার । ১৯২২ সালের ডিসেম্বর মাসে গয়ায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে পরিষদে প্রবেশ সংক্রান্ত তাঁর এই প্রস্তাব গৃহীত না হলে তিনি অতঃপর কংগ্রেসের সভাপতির পদে ইস্তফা দেন ।...1922 সালে তিনি মতিলাল নেহরু, হাকিম আজমল খান, আলী ভ্রাতৃদ্বয় ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে "স্বরাজ্য দল" এর ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় বিধান পরিষদের নির্বাচনে স্বরাজ দল উল্লেখযোগ্য বিজয় ঘটে।
দেশবন্ধুর অভিমত ছিল যে, বঙ্গীয় আইন পরিষদ এ বলিষ্ঠ গ্রুপ সৃষ্টিকারী মুসলিম সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা ব্যতিরেকে স্বরাজবাদীদের বাধাদানের নীতি সফল হবে না। বস্ত্তত, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিশ্বাসসহ তিনি ছিলেন রাজনৈতিক বাস্তববাদী এবং প্রচন্ড বিরোধিতার মুখেও তিনি নিজ অবস্থান থেকে কখনও বিচ্যুত হতেন না। তিনি নিজে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জ্বলন্ত অগ্রদূত ছিলেন ।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যে অবস্থান নিয়েছিল, সি.আর দাশ তার সমালোচনা করে ঘোষণা করেন: ‘তোমরা সভার সিদ্ধান্তসমূহ থেকে বেঙ্গল প্যাক্টকে মুছে ফেলতে পার, কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে বাংলাকে বাদ দিতে পারবে না...এ রকম শিষ্টাচারহীন রীতিতে বাংলাকে মুছে ফেলা যাবে না। যার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন হিন্দু-মুসলিম মিলনের এক অগ্রদূত আর সেই ভাবধারা বহন করেছিলেন নেতাজী সুভাষ । দেশবন্ধু অনুভব করতেন যে বাঙলাকে অখণ্ড রেখে শান্তিপূর্ণ- সহাবস্থান চাই আর তা করতে হলে হিন্দু-মুসলমানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার প্রয়োজন। এই জন্যে ১৯২৩ সালে সিরাজগঞ্জে সভাতে তাঁর বিখ্যাত হিন্দু-মুসলিম চুক্তি (বেঙ্গল প্যাক্ট) সম্পাদন করেন। এই চুক্তিতে সবার সম অধিকার প্রতিষ্ঠার শর্ত ও নিয়মাবলি ছিলো।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নির্দেশে বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তিটি তৈরি করেছিলেন নেতাজী সুভাষ বসু ।
১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল সুভাষ বসু তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের পাশে থেকে তাঁর সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুভাষ বসু ছিলেন দেশবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি। . .. তাঁর স্বরাজ্য দল ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ী হয় ও তিনি মেয়র নির্বাচিত হন এবং তিনিই প্রথম বাঙ্গলী মেয়র ।
1925 সালে কংগ্রেস অধিবেশন শেষ করে দার্জিলিং যাবার পথে 16 জুন হঠাত্ ই মৃত্যূ ঘটে এই মহান বাঙ্গালির ।

জীবন

জীবন
-----*----
দেবপ্রসাদ বসু

ভালোবেসে এভাবেই আজীবন
কাছে এসো প্রিয়,
হাতে ক'রে ভালোবাসার নিত্য নতুন
মোড়ক আনিও,
গ্রীষ্মে বৃষ্টি দিও বর্ষায় রোদ, শীতে উত্তাপ
আর সঙ্গ আমোদ।
একা থাকি সারাদিন শরীরের কাছে,
চিন্তায় পাখি ওড়ে ফুল ফোটে ফল ফলে
বাসনার গাছে,
মনের আকাশে কত সম্পর্ক প্রীতি
নাম লেখে মুছে দেয় ভিতি ও সম্প্রীতি
ওঁৎ পেতে থাকা কত নেয় প্রতিশোধ।
তুমি আসো ব'লে তাই নিঃস্বাস নিই
বিশ্বাস রাখো সেকারণ নিশ্চিন্তই,
পুতিগন্ধ মেখে আসো কোনও কোনও দিন
কখনও বা সঙ্গে আসে সুগন্ধি অমলিন,
গায়ে প'রে মেশে যদি তোমার কি দোষ!
নির্লিপ্ত মহত্ব তোমার ওরা বোঝেনা নির্বোধ।
বুকের ভিতর তোমার বসতি মাপা
লক্ষ্য যে রাখে তাকে দাও কিছু গোলাপ চাঁপা,
পরকীয়া চিন্তা মেখে যে তোমায় ভজে
একাকিত্ব ঘোচাতে যে বহুত্বে মজে,
তাকেও তুমি সঙ্গ দাও জানি ওগো জানি
সম্পর্কের দূরত্ব রেখে মোহ অভিমানী
আলোকে আঁধার দিয়ে, আঁধারকে আলো
বিলিয়ে, দাও প্রবোধ।
এসো এসো রোজ এসো যে ক'দিন বাঁচি
ভালোবাসা দিয়ে নিয়ে ভালোবাসায় নাচি,
তোমাকে আগুন মানি অদৃশ্য দেহখানি
আমারও আগুন আছে মিষ্টি মিহি পানি,
স্পর্শ পাই আতিথ্য কাতর, যতক্ষন ---
থাকে মনে বোধ।

। আউশ।

। আউশ।
আর্যতীর্থ

( যারা আয়ু্র্বেদ শিখে আয়ু্র্বেদই চর্চা করেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর সম্মান আছে। আপত্তিটা যাঁরা আয়ুর্বেদ পড়ে মডার্ন মেডিসিন করতে চান, তাঁদের নিয়ে। তাঁরা না করেন আয়ুর্বেদকে সম্মান, কতিপয় ওষুধ জানলেই যে মডার্ন মেডিসিন জানা যায় না, সেটাও বোঝেন না। ধিক্কার সেই নেতাদের, যারা নিজেদের চিকিৎসা বিদেশে করান, আর জনগণের জন্য এমন চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সাহস থাকলে নিজের চিকিৎসা আউশ ডাক্তার দিয়ে করান দেখি!)
আগে কেনে কইলি না তুই বদ্যি হওন এত সোজা?
বারোর কেলাস পাশ কইরা ফালতু টানি মালের বোঝা।
এমন আমি রমু না বাপ, বড্ড হ্যাপা জীবন টাইন্যা,
আউশ হমু , ওষুধ লিখুম, পদ্ধতিটা আইসো জাইন্যা।
ইস্কুলে আছিলো পোলা আলামিন আর আকাশ নামে,
হালায় দুজন পড়তো খালি, মন ছিলো না অন্য কামে
আমরা যাইতাম কেলাস কাইট্যা রগরগা সব সিনেমাতে
অগো দেহি বইয়া আসে সর্বক্ষণই বইয়ের সাথে
পোলা দুইডা জয়েন্ট পাইয়া কলকেতাতে গেসে গিয়া
হায় রে আমি পইড়া আছি, বারো পাশের কাগজ লইয়া।
এইবারে আর রমু না দোস্ত, সরকার আইজ আইসা বলে,
ডাক্তারীটা খুবই কঠিন এমনডা কয় কোন পাগলে?
গাছ গাছড়া চিনছি আমি কত মাঠে ঘুইরা ঘুইরা,
আয়ুর্বেদের পরীক্ষা পাশ দেইখো করুম হাইস্যা উইড়া।
তারপরে তো ফুর্তি শুধু , সরকার তো কইয়া দিসে,
অ্যালোপাথির ওষুধ লিখুম, আমার আবার ভয়ডা কিসে?
আলামিন আর আকাশ তো সেই বুড়া হইয়া বাইর হইবো,
এমন প্র্যাকটিস জমাইয়া লমু, আমার কথাই লোকে কইবো।
দোকানদারীর মাল টাইনা আর মন ভরে না ইয়ার দোস্ত
এবার আমি আউশ হমু, টাকা কামামু জবরদস্ত।


Show more reacti

ঝুলছে জীবন

*** ঝুলছে জীবন ***
###সুনীল সরকার
পথের ধারে খুঁটির তারে
ঝুলছে জীবন দুলকি চালে।
ভাবনা পাছে কীই বা আছে
স্তব্ধ বুঝি নেই সে তালে॥
নেইতো কোথাও আগের মতন
তাল নারকেল সারি সারি ।
দর্জি পাখির দরজা বন্ধ
যাচ্ছে ভুলে কারিগরি॥
মাঠে মাঠে সোনার জমি
ইটের বাড়ি তুলছে মাথা।
সবুজ প্রান্তর ধূসর হচ্ছে
জমছে বুকে হাজার ব্যথা॥
বইয়ের পাতায় থাকবে লেখা
দর্জি পাখি বাবুই সোনা।
জীব বৈচিত্র লোপাট হবে
থাকবে জীব হাতে গোনা॥
এদের মতোই ঝুলবে মানুষ
দুলবে অদূরে আপনার দোষে।
বৃক্ষরোপণে হাতটা লাগাও
ভেবো না শুধু বসে বসে॥

এখন ডাক্তারী।

আর্যতীর্থ

গাড়ি থেকে ডাক্তারের স্টিকারটা তুলে ফেললাম।
না দাদা , ভুয়ো নই, এক্কেবারে যৌবন জলাঞ্জলি দিয়ে ডিগ্রীগুলো পাওয়া,
( অবিশ্বাস হলে কাউন্সিলে ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নেবেন নাম)
তবু, আজ গাড়ির থেকে সাপ আর লাঠির সব চিহ্ন হাওয়া।
আত্মরক্ষা , বুঝলেন দাদা, কখন কি হয় বলা তো যায়না,
আপনিই হয়তো কাল হাজির হবেন কোনো মুমূর্ষুকে নিয়ে,
এবং করবেন একটি ওষুধে পাঁচ মিনিটে সারিয়ে দেওয়ার বায়না,
না পারলেই গালাগাল, মারতেও পারেন লাঠি বা জুতো দিয়ে।
ভাঙচুরের ভয়ে দাদা গাড়ি এখন বাইরে রাখি রাস্তার ধারে,
( সঠিক দলীয় পতাকা লাগানো, তাই অন্তত চোরের ভয় নেই)
যদি দেখি বেগতিক, কথাদের উত্তাপ চারদিকে ক্রমে ক্রমে বাড়ে,
সটান পিটটান দেবো ,ভিড়ে মিশে কেটে যাবো ওই গাড়িতেই।
কি বললেন? নোবেল প্রফেশন? রোগী ছেড়ে পলায়ন গর্হিত অতি?
মানছি দাদা মানছি। হিপোক্রেটিসের ভুতটা এই আকালেও ঘাড়ে চেপে আছে,
কিন্তু ওই যে পঞ্চতন্ত্রে পড়েছিলাম না, য পলায়তি স জীবতি,
ডাক্তার হোক বা যোদ্ধা, পৈতৃক প্রাণটি প্রিয় সবার কাছে।
যে ভাবে শিখেছিলাম, তার থেকে আমূল বদলেছে চিকিৎসা পদ্ধতি,
( দেশ এগোচ্ছে, এটাকে অগ্রগতি বলে ধরে নেওয়াই ভালো )
রোগীকে দেখো পাঁচমিনিট, আর ঝাড়া আধঘন্টা লিখে যাও নথি,
বলা তো যায়না, কখন থানা, কমিশন বা কোর্ট থেকে ডাক এসে গেলো!
এখন রোগী ভালো হলে আনন্দ হয় না আর, বরং ঘাড় থেকে বোঝা নামে,
চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস নেই , কারণ একটা ব্যর্থতা একশো সাফল্য খেয়ে নেবে,
সামান্য খারাপ হলে বুক ধুকপুক , ভয়ে জামা ভিজে ওঠে ঘামে,
তাই নিরাপদে থেকে নিত্য রেফার করি, রোগীর খরচ নিয়ে লাভ নেই আজ আর ভেবে।
জানি দাদা, বলবেন অত ভীতু হলে বাপু ডাক্তারী ছেড়ে দিলেই হয়!
এখানেই তো সমস্যা, অন্য কিছু করতে যে শিখিইনি কখনো জীবনে,
কেন যে শিখিনি সেটা নিয়ে হাত কামড়াই এখন অনেক সময়,
বিশ্বাস করুন , জয়েন্টে চান্স পাওয়ার জন্য আফশোষ হয় মনে মনে।
যাকগে যাক, আপনার সময় দামী, আর কতটা নষ্ট করবেন এসব প্যাচাল শুনে,
আপনি তো রোগ হলে স্বচ্ছন্দে চলে যেতে পারেন বাঙ্গালোর চেন্নাই বা ভেলোর,
এই রাজ্যে আমরা অপেক্ষায় থাকি কবে অভিযুক্ত হবো মানুষখুনে,
খেতে থাকি রাজনীতি আর মিডিয়ার গালি, আর উটকো লোকের মারধোর।

প্রেমানুভূতি

প্রেমানুভূতি
-----------------সায়ন্তনী

অষ্টাদশীর প্রেমানুভূতির প্রথম দেখা পেলাম সেদিন।অদ্ভুত সুন্দর, মিষ্টি মধুর এক সুখানুভূতি । কিন্তু ঠিক বোঝাতে পারব না বন্ধু দের ।সবাই যে কি ভাববে কে জানে!!!!
মা-বাবার সাথে যাচ্ছিলাম মাসির বাড়ি ভূবনেশ্বর ।ধৌলি এক্সপ্রেসের এসি টিকিট ছিল আমাদের ।কিন্তু দুঃখের বিষয় এক জায়গায় তিনজনের সিট পড়ে নি ।আমার সিট টা একটু দূরে ছিল, তাও জানলার ধারে নয় বলে একটু মুড টা অফ্ ছিল ।যাইহোক নিজের মোবাইল টা খুলে কানে হেডফোন টা গুজতে যাব, এমন সময় পাশে বসা ভদ্রলোক টি বলল, " আপনি চাইলে জানলার ধারে বসতে পারেন "।আমি একটু অবাক হয়ে তার দিকে তাকালাম, দেখি এ তো লোক নয় , এক হ্যান্ডসাম সুপুরুষ।বয়স কম বলেই মনে হল।মুখে একটা হালকা ছোঁয়া হাসি ।আমার উত্তরের অপেক্ষা না করে "ও" উঠে পড়ল।আমিও উঠে সিট টা চেঞ্জ করে জানলার ধারে বসে ধন্যবাদ জানালাম।
কিছুক্ষণ বাইরের দৃশ্য দেখার পর হঠাৎই দুজনে একসাথে জিগ্যেস করে উঠলাম, " আপনি কোথায় যাচ্ছেন? "বলেই দুজনে হেসে ফেললাম খিলখিল করে ।আমি জানালাম ভূবনেশ্বর নামব ।সে বলল, "তাই নাকি? আমিও তাই ।তা বেড়াতে বুঝি? "বললাম "হ্যাঁ মাসির বাড়ি যাচ্ছি "।জানলাম সে ও যাচ্ছে একটা বিশেষ কাজে, ওর পিসির বাড়ি।আগেই বাবা-মা পৌঁছে গেছেন ।ও কাল রবিবারের কাজ টা সেরে চলে যাবে ।কোলকাতায় কোথায় বাড়ি কি করে, আমি কি পড়ি,কোথায় থাকি, এছাড়া টুকটাক গল্প চলতেই থাকল ।
জানিনা কেন, কিছুক্ষণ চুপ থাকলেই কেমন যেন ছটফট করছিলাম কথা বলার জন্য ।সেটা কাটাতে বাইরের দৃশ্য দেখতে থাকলাম ।ছেলেটি গান শুনছিল, হঠাৎই হেডফোনের একটা তার আমার কানে গুজে দিয়ে বলল "গানটা শোন, কি সুন্দর "।আমিও শুনতে থাকলাম ।মনে হল যেন কতদিন ধরে চিনি আমরা দুজন দুজনকে ।যেতে যেতে টুকটাক খাওয়া দাওয়া চলতে থাকল, আর জানলাম ও নাকি খুব বেড়াতে ভালোবাসে ।কত জায়গার ছবি দেখালো, গল্প বলল ।আমি মোহিত হয়ে শুনছিলাম ।বেশ লাগছিল, সময়টা কি করে কেটে গেল বুঝলাম না ।
দেখতে দেখতে কটক চলে এল। বলল , "আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ভূবনেশ্বর এসে যাবে "।কথাটা শুনেই বুকের ভেতর টা কেমন ফাঁকা অনুভূত হতে লাগল ।নামতে ইচ্ছা করছিল না যেন ।কিন্তু কেন? তা কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না।যাইহোক নামার আগে ফোন নং আদান প্রদান করলাম।তারপর যে যার মত নেমে গেলাম ।
মাসির বাড়ি পৌঁছে স্নান করে খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম।কিন্তু কি জানি কেন, কিছুতেই ঘুম এলো না।উঠে জল খেতে ডাইনিং এ যেতে গিয়ে মা আর মাসির কিছু কথা কানে এল ।মনে হল পরদিন রবিবার কেউ বোধহয় আসবে ।তাই আলোচনা চলছে ।সোজা ঘরে গিয়ে জানতে চাইলাম "কারা আসবে গো মাসিমনি?"মাসি বলল, "বোস এখানে বলছি।আমার এক বান্ধবী তার দাদা-বৌদি কে নিয়ে আসবে ।তোকে দেখতে "।আমি একটু অবাক আর বিরক্ত হয়ে বললাম, "দেখতে মানে?কি মতলব বলতো তোমাদের? আমি সেজেগুজে বসতে পারব না কারোর সামনে বলে দিলাম।"ব্যাস, মা মাসি সবাই বোঝাতে লাগল, "ছেলে খুব ভালো রে, চেনা জানার মধ্যে, একবার দেখনা,ভালো না লাগলে কেউ জোর করবে না তোকে "।এরপর কিছু বলার থাকেনা ।কিন্তু মনটা কেন যে খচখচ করছে কে জানে।যাইহোক, পরদিন দুপুরে খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে একটা শাড়ি পড়ে নিলাম ।চুলটা ছেড়ে একটা টিপ পড়ে আয়নার সামনে দাঁড়াতেই পিছন থেকে কে যেন বলে উঠল, "মিষ্টি লাগছে"।পেছনে তাকাতেই যেন ভ্যানিস।কেউ নেই তো ।তবে কি ভুল শুনলাম!!
ওরা এসে গেছে ।শুনেই কেমন যেন একটা অনুভূতি হল হৃদয়ে ।মাসি আমায় ওদের সামনে নিয়ে গেলে, বড়দের প্রণাম করলাম ।একি! !!পাশে ওটা কে বসে? কালকের ঐ ছেলেটা না? হ্যা তো অভি ই তো ।দুজনেই অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম।কিন্তু কেউ কিছুই বুঝল না ।আমার সারা শরীরে বিদ্যুতের ঝিলিক প্রবাহিত হল যেন ।কোন কথা কানে ঢুকছিল না ।মাথা নীচু করে চুপ করে বসে ছিলাম।নিজের অজান্তেই ওদের সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলাম ।হঠাৎই মাসির বান্ধবী বলল, " ওদের নিজেদের মধ্যে একটু কথা বলতে দে "।বলেই আমাকে আর অভিকে পাশের ঘরে চালান করে দিল ।দুজনে আজ মুখোমুখি বসে আছি, কিন্তু কিছুই বলতে পারছিনা যেন ।হঠাৎই অভি বলে বসল,------
" আমি তোমাকে চাই,
তুমি কি আমার হবে?
শয়নে-স্বপনে , জাগরণে
বক্ষমাঝেই রবে।"
ওর দিকে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলে দিলাম আমার সদর্থক উত্তর ।ও বুঝল কিনা জানিনা, বোধহয় বুঝেছে ।তাই বলল, "তোমার নীরবতা আমার কাছে সম্মতি "।এখন কিছু বলতে হবে না ।রাতে হোওয়াটস আপে জানিও ।" আমার মন ময়ূরী পেখম মেলে ধরল যেন ।একটা সুখানুভূতির আবেশে মনটা ভরে গেল।ওরা চলে গেলে, সবাই কত কি জিগ্যেস করছিল আমায়,আমি জবাব দেব কি, ঘোরই কাটছে না, এমন ও হয়?এত ভালো কেন লাগছে? তবে কি আমি এটাই চাইছিলাম? এটাকে কি প্রেম বলে? কে দেবে এর উত্তর? ইস্ কি সব ভাবছি আমি ।ধ্যাত আর ভাবব না।কিন্তু ভাবব না বললেই চলে না, ঠিক তখনি হোয়াটসআপে ম্যাসেজ এল, অভি লিখেছে,--
" তুমি আমার স্বপ্নের সেই রাজকন্যে
ছিলে, আছো,থাকবে আমার এই মনে
তোমার যদি কিছু বলার আজ থাকে,
বলে ফেলো নির্দ্বিধায় এই শুভক্ষণে।"
অভির এই ছোট্ট ছোট্ট কবিতার জবাব গুলো আমার ও ছন্দে দিতে মন চাইছিল । কিন্তু আমি যে কবিতা লিখতে পারি না ।কি লিখি ভাবতে ভাবতে কটা লাইন লিখেও ফেললাম।
"তোমার স্বপ্নপুরীর রাজকন্যে
অপেক্ষাতে রয়
তুমিও যে তার স্বপ্ন পুরুষ
করলে মন জয়।"
ওপার থেকে জবাব এল, ---
" এলো বলে, রাজপুত্র
পক্ষীরাজের ঘোড়ায় চড়ে
রাজকন্যে, তৈরী থেকো,
নেবে তোমায় আপন করে "।
এই রকম কবিতার ঝড় উঠল যেন ।আমি যেন ভেসে যেতে লাগলাম এক অজানা সুখ সাগরে ......উথাল পাতাল ঢেউ গুলো আমায় ভিজিয়ে দিতে লাগল অবিরত ।আমি ভিজলাম, ডুবলাম,মনের সুখে ।এ এক অনন্য অনুভূতি ,এখনো ভাবলে শিহরণ জাগে ।
তারপর?
তারপর যা হল, বলব কেন তোমাদের? বলব না যাও ।হি হি হি ........

গল্প হলেও সত্যি

# গল্প_হলেও_সত্যি
------------------------------
# সায়ন্তনী

কলেজের বিশাল বিল্ডিঙের সামনে দিশাহারা হয়ে দাঁড়িয়েছিল নীল মানে নীলাভ্র । মফঃস্বল শহর  পুরুলিয়া থেকে কলকাতার এই বিশাল কলেজে ভর্তি হয়েছে নীল ফিজিক্স নিয়ে পড়বে বলে । ছোট্ট শহরে সব ছোট ছোট দেখে অভ্যস্ত নীল এই বিশাল জায়গায় এসে একটু ঘাবড়ে গেছে । মা বাবা সাহস দিয়েছেন , বলেছেন কদিন গেলেই নীল সব কিছুর সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবে । এখানে নীলের কোনো বন্ধু নেই , কোনো পরিচিত কেউও নেই । ফিজিক্স ডিপার্টমেন্ট কোনদিকে কে জানে ! খুঁজে বের করতে হবে । এগিয়ে গেল নীল ।
" এই যে দাদা ! ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টটা কোনদিকে , একটু বলে দেবেন প্লিজ ? "
যাকে বলা হল , সেই দাদাটি আরও দু তিনজনের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত ছিল , প্রশ্ন শুনে ফিরল , তারপর নীলকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত ভালো করে জরিপ করে নিয়ে বলল , " নতুন ব্যাচ বুঝি ? নিশ্চয়ই গ্রাম থেকে আসা হয়েছে ? তা এখানে টিকতে পারবে তো বাবু ? " অবাক নীল কিছু জবাব দিল না । আরেকজন এগিয়ে এল , " এরকম পাট পাট করে চুল আঁচড়ালে তোকে কলেজে ঢুকতে দেবো না রে গাঁইয়া , দেখি চুলটা ঠিক করে আঁচড়ে দিই ! "
বলেই সে পকেট থেকে চিরুনি বের করে নীলের চুল আঁচড়াতে গেল , নীল যত বাধা দেয় , ওরা তত হাসে , নীল বুঝতেই পারছিল না , ওরা এমন করছে কেন ? কি আনন্দ পাচ্ছে !
ওদের আক্রমণ বা রাগিং এ নীল যখন দিশাহারা , তখনি শুনতে পেল কেউ বলছে , " আরে ! অবিনাশ দা ! কেন এরকম করছ বেচারার সাথে ? ছেড়ে দাও ! দেখছ না ঘাবড়ে গেছে ! " নীল তাকিয়ে দেখল গোলাপি সাদা ড্রেসে এক অপরূপা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে কথাগুলো বলছে ।
+ আরে কিছু না , একটু মজা করছিলাম রে , গেঁয়ো টাকে শহুরে বানাতে হবে তো ! তোরই ডিপার্টমেন্টের রে পাপড়ি । "
" ছেড়ে দাও ওকে , তোমাদের আর ওকে নিয়ে মাথা ব্যথা না করলেও চলবে।"
বলল পাপড়ি নামের অপরূপা ।
নীল হাঁ করে মেয়েটিকে দেখছিল , এত সুন্দর কেউ হয় ! আর কি সাহস ! কি তেড়ে ঝগড়া করছে ! মেয়েটি তখন নীলকে বলল , " তুমি ফিজিক্স এর ? সাত দিন হয়ে গেছে ক্লাস , কোথায় , তোমায় তো দেখি নি ! "
" আমি অনেক দূরে থাকি । সব ঠিকঠাক করে এখানে ক্লাসে জয়েন করতে তাই একটু দেরী হয়ে গেছে । কোনদিকে আমাদের ক্লাস ? "
" তুমি চলো আমার সাথে । একসাথে যাবো । " বলল পাপড়ি ।
যেতে যেতে নীল বলল , " ওই দাদাটা কে ? এমন করছিল কেন ? "
" আরে এ অবিনাশ দা । আমাদের পাড়ার , ভালো করে চিনি , সারাদিন শুধু শয়তানি করে বেড়ায় , কেমিস্ট্রি সেকেন্ড ইয়ার , ফার্স্ট ইয়ার কোনোমতে পার করেছে , সেকেন্ড ইয়ারটা কি করবে কে জানে ! বইপত্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই তো ! " বলল পাপড়ি ।
" তোমার খুব সাহস " বলেই ফেলল নীল , পাপড়ি হাসল শুধু ।
এরপর থেকে নীল আর পাপড়ির দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে গেল । এতদিনে নীল নিজেকে অনেকটা মানিয়ে নিয়েছে এই শহরের সাথে । শহরটাকে অনেকটা ভালোবেসেও ফেলেছে । কত কি আছে এখানে , ওদের গ্রাম্য শহরে তো কিছুই নেই ।
নীল একটা বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হয়ে থাকছে , হোস্টেলের পরিবেশে ছেলে মানিয়ে নিতে পারবে কি না সেই চিন্তায় নীলের মা বাবা ছেলেকে ঘরোয়া পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন । ভালোই লাগছে সেখানে নীলের ।
পাপড়ির বাড়ি লেক টাউনে , ওর মা বাবা দুজনেই চাকরি করেন , বলেছে পাপড়ি । অনেক কথা হয় ওদের দুজনের , হবে নাই বা কেন ! সারাক্ষণ প্রায় একসাথে থাকে যে ! যেখানে নীল সেখানেই পাপড়ি বা যেখানেই পাপড়ি সেখানেই নীল । পাপড়ির কাছে নীল শুধুই ওর প্রিয় বন্ধু , জানে নীল , কিন্তু নীল যে পাপড়িকে ভালোবেসে ফেলেছে , একেবারে পাগলের মত ভালোবেসে ফেলেছে , কি করবে নীল ?পাপড়িকে বলতেও ভয় লাগে , হয়তো হেসেই উড়িয়ে দেবে বা ওদের বন্ধুত্বটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে । তাই মনের কথা মনেই চেপে রাখে নীল ।
আজ ক্লাসের পর নীল আর পাপড়ি একটু বেরোচ্ছিল , একটু কলেজ স্ট্রীট যাবে । কিছু বই কিনতে হবে । তখনই অবিনাশ এসে ওদের পথ আটকে দাঁড়ালো , " কোথায় যাচ্ছিস পাপড়ি ? এই গেঁয়ো ভূতটার সাথে তোর এত মাখামাখি কিসের?"
" নিজের মুখের ভাষা আগে ঠিক কর অবিনাশ দা । নীল আমার বন্ধু , আর গেঁয়ো হোক আর যাই হোক , তোমাদের থেকে হাজার গুণে ভালো ছেলে । "
" ওহ ! খুব ভালো লাগছে এই ছেলেকে তোর , তাই না ? " চিবিয়ে চিবিয়ে বলল অবিনাশ ।
" হ্যাঁ ভালো লাগছে , তাতে তোমার কি ? এখন পথ ছাড়ো , বেরবো "
হঠাত অবিনাশ নীলকে চমকে দিয়ে পাপড়ির হাত চেপে ধরল , " খুব বেড়ে গেছিস তুই , তাই না ? বেশী বাড় ভালো নয় কিন্তু ! "
এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে পাপড়ি বলল , " কার বাড় বেড়েছে , সে তো দেখাই যাচ্ছে , আমি কার সাথে মিশি , না মিশি , তা নিয়ে তোমার কিসের মাথা ব্যথা ! "
নীলের হাত ধরে টেনে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলো পাপড়ি , পেছন থেকে অবিনাশ বলল , " এর ফল কিন্তু ভালো হবে না , পস্তাতে হবে তোকে । "
রাস্তায় বেরিয়ে নীল বলল , " অবিনাশ দা কি তোকে পছন্দ করে ? তাই আমার সঙ্গে মিশতে বারণ করছে ? "
" ছাড় তো অবিনাশ দার কথা , ওর আবার পছন্দ আর অপছন্দ । আজ পর্যন্ত কত মেয়ের সঙ্গে ও জড়িয়েছে , তার ঠিক নেই , খুব বাজে ছেলে । কত বড় সাহস যে আমাকে এভাবে বলতে এসেছে , আমি কি ওর কেনা সম্পত্তি নাকি ? "
" ভয় করছে না তোর ? " বলল নীল ।
" অন্যায়ের সঙ্গে লড়তে গেলে কি ভয় করলে চলে ? " হেসে বলল পাপড়ি ।
এর পর থেকে কলেজে নীলের জিনা হারাম করে দিল অবিনাশ আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা । দেখলেই পেছনে লাগে , আজেবাজে কথা বলে , অশান্তির ভয়ে নীল সব সহ্য করে ।
আজ আবার পাপড়ি আর নীল বেরচ্ছিল , উদ্দেশ্য ওই সামনের বিশুদার দোকান থেকে একটু লস্যি খেয়ে আসবে । কি দারুণ বানায় , এই গরমে খুব ভালো লাগবে।
পথ আটকালো অবিনাশ ওরা , " কি মিয়াঁ বাবু ? বিবিটিকে নিয়ে কোথায় হাওয়া খেতে যাচ্ছেন ? সব মজা আপনি নেবেন ? আমরা কি বানের জলে ভেসে এসেছি?"
নীল ভয়ে ঘামছিল , ওরা তারপর পাপড়িকে বলল , " কি বিবিসাব ? মাঝে মাঝে এই বান্দাদের নিয়েও হাওয়া খেতে যেতে পারেন তো ! " হ্যা হ্যা করে হাসছিল ওরা । রাগে অপমানে পাপড়ির মুখ লাল ।নীল তখনো চুপ , ওই শেয়ালদের ঠেলে সরিয়ে পাপড়ি ছুটে বেরিয়ে গেল , পেছনে পেছনে নীলও । তখনো ওরা অশ্লীল হাসি হাসছিল।
বাইরে বেরিয়ে পাপড়ি কেঁদে ফেলল , " তুই এত ভীতু কেন নীল ? এত বাজে কথার একটা প্রতিবাদ করলি না ? ছি ছি , কাওয়ার্ড একটা ! তুই আমার বন্ধু হওয়ার যোগ্য নোস , প্লিজ আর কখনো আমার সাথে কথা বলবি না । "
নীলকে হতভম্ব করে রেখে পাপড়ি একটা বাসে উঠে পড়লো । নীলের নিজের উপর ঘেন্না হচ্ছিল , সত্যি তো , কেন সে এত নোংরা কথার প্রতিবাদ করল না ? সে না পাপড়িকে ভালোবাসে ? ছি ! সত্যি সে কাওয়ার্ড । এর পর থেকে পাপড়ি আর কথা বলছিল না নীলের সাথে । নীল অনেকবার চেষ্টা করেছে , ক্ষমাও চেয়েছে , কিন্তু কোনো কাজ হয় নি । নীলের খুব কষ্ট হচ্ছে । পাপড়িকে ছেড়ে থাকতে পারছে না ও । কিন্তু দোষ তো নীলেরই !
আজ প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস শেষ হতে একটু দেরী হয়েছিল । ছুটির পর পাপড়ি বেরিয়ে যাচ্ছিলো , পেছনে পেছনে অপরাধ বোধে আক্রান্ত নীলও । কলেজের বাইরে সামনেটা একটু ফাঁকা ফাঁকা ছিল , অন্ধকার হয়ে আসছে , হঠাত নীল দেখল ওই শয়তান অবিনাশ আর দুটো ছেলে পাপড়িকে ঘিরে ধরেছে , অবিনাশ পাপড়ির হাত চেপে ধরেছিল , আজ আর নীল ভয় পায় না , দৌড়ে গেল সে , " ছেড়ে দাও ওকে অবিনাশ দা ! " বলল সে ।
" এই গাঁইয়া তুই সরে যা এখান থেকে । " জড়ানো গলায় বলল অবিনাশ । নীল বুঝল ওরা নেশা করে এসেছে । সে পাপড়িকে আড়াল করে দাঁড়ালো , " আমি থাকতে তোমরা পাপড়ির কোনো ক্ষতি করতে পারবে না । "
প্রথমে থমকে গেল ওরা , তারপর ঝাঁপিয়ে পড়লো নীলের ওপর , শুরু হয়ে গেল ধ্বস্তাধস্তি , হঠাত ওদের একজন একটা ছুরি বের করে নীলের বুকে চালিয়ে দিল , রক্তে ভেসে যাচ্ছিলো নীল , পাপড়ির চিৎকারে অনেক লোক ছুটে আসছিল , ওরা পালিয়ে গেল । নীলকে জড়িয়ে প্রচণ্ড কাঁদছিল পাপড়ি ।
এ্যাম্বুলেন্স এ করে নীলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল , সঙ্গে পাপড়িও নীলের হাত চেপে ধরে বসেছিল । ভাগ্য ভালো ছুরিটা গভীরে ঢুকে যায় নি , তবে অনেকটা জুড়ে কেটে গেছে , ঠিক হয়ে যাবে নীল । পাপড়ি বলছিল , " তোর কিছু হবে না নীল , তুই ঠিক হয়ে যাবি , আমি আছি তোর সাথে । "
" আমি কি ভীতু ? কাওয়ার্ড ? বল ? আর ভীতু ভাববি না তো আমায় ? দেখলি তো আমিও প্রতিবাদ করতে জানি , আমাকে ছেড়ে যাবি না তো ! তোকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না পাপড়ি ।" অনেক কষ্টে বলল নীল ।
+ তুই চুপ কর , এখন কথা বলিস না , আমি সারাজীবন তোর সঙ্গে থাকবো , আমিও তোকে ছেড়ে থাকতে পারবো না , লাভ ইউ , লাভ ইউ নীল ! " কাঁদছিল পাপড়ি ।
অনেক কষ্টেও নীলের মুখে হাসি ফুটল , " কিন্তু অবিনাশ তো ছাড়বে না তোকে। আর তুই আগে তো বলিস নি তুই আমাকে ভালবাসিস ? "
" অবিনাশদের পুলিশে ধরিয়ে দেবো আমি , আমি সাক্ষী দেবো , তুই চুপ কর , আর মেয়েরা কি আগে প্রপোজ করে ? আমি অপেক্ষা করছিলাম , কবে তুই বলবি তোর মনের কথা । " চোখে জল নিয়ে হাসছিল পাপড়িও ।
(সমাপ্ত)

লজ্জা

Arpita Shome



আপনি জানেন কী আমাদের স্বাধীনতার 70 বছর পরও বৃহত্ কৃষিপ্রধান দেশের প্রতি ১০ জনের আত্মহত্যার মধ্যে ৭ জন কৃষক। বেশি মহারাষ্ট্রে। . গত পাঁচ বছর ধরে ভয়ঙ্কর খরা চলছে এই মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া আর বিদর্ভ অঞ্চলে।এই অঞ্চলের মানূষের দুর্দশার কথা শুনুন:- দূরপাল্লার ট্রেনকে চেন টেনে থামায় আর একদল বৃদ্ধ- বৃদ্ধা-মহিলা- বালক - বালিকা - শিশুরা হাতে বালতি আর বোতল, কৌটো, লোটা নিয়ে ট্রেনে উঠে ট্রেনের কম্পার্টমেন্টের টয়লেটে জল ধরে আর শিশুরা হামাগুড়ি দিয়ে সিটের নিচে আর বয়স্করা উঁকি মেরে আপার বার্থে যাত্রীদের উচ্ছিষ্ট জলের বোতলে অবশিষ্ট এক-দু ফোঁটা জলের খোঁজ শুরু করে। যদি একটি পুরো জলের বোতল পায় সোনার হাসিতে ভরে উঠে বালিকার মুখ। সগর্বে বলে "মা দেখ দেখ"!.. যেন নবেল পেল । . . আর নবেলপ্রাপ্ত অমর্ত্যবাবু শেষ 10 বছরে কংগ্রেস সরকারকে কী প্লান দিলেন ?.. এই শুকনো ভারত ? ...অভাগা দের ট্রেনে এইভাবেই 'জল চুরি' করা ?

পূর্ব মহারাষ্ট্রের লাটুর জেলায় প্রতিদিন পাঁচ কোটি লিটার জল লাগে।কিন্তু জলের একমাত্র উৎস মানাজার ড্যাম গত তিনমাস ধরে শূন্য।সুইজারল্যান্ডের নেসলে'র সিইও পিটার বার্বেক বলেছিলেন "জল মানুষের মৌলিক অধিকার নয়। চাই জলের বেসরকারিকরণ"।উনা কে একদিন বিদর্ভে এনে রেখে দিলে পৃথিবীর সত্যটা কে তিনি দেখতে পেতেন। নেহরুর কত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গেল । ইন্দিরাজির "গরিবী হটাও" হলো। সবই হলো ..... ফল হয় নি কিছুই । কী হয়েছে ! ........
Thomson Reuters's Foundation জানিয়েছে মহারাষ্ট্রের দলিত ঘরের বৌ'রা পানীয় জলের জন্যে আজকাল বেশ্যা বৃত্তি’ও করছেন। .....
আজ দেশের ৩৩ কোটি মানুষ খরা কবলিত । এটা লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বীরেন্দ্র চৌধুরী পেশ করা হিসাব। আরও শুনবেন 543 M.P লোকসভা কক্ষে ঔ দিন উপস্থিত ছিলেন 097 জন "মাননীয় সাংসদ"। বেসরকারি হিসেব ভারতে খরা পীড়িত মানুষ অন্তত ৫৪ কোটি। ..........."অর্থাৎ প্রতি ৫ জনে ২ জন"॥ . . দেশের শ্রী-বৃদ্ধি হচ্ছে টয়লেটের জলে রান্না-বান্নার 'পুষ্টি গুনের'।
বুন্দেলখন্ডের খরা কবলিত প্রত্যন্ত গ্রামের তৃষ্ণার্ত একটি গরুর মৃত্যু কাহিনীর বর্ণনায় ক্লাস ফোরের গরীব মেয়ে বললো "और उसके बात बो तड़प, तड़प के मोर गई..." খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেল, সত্যিই, বুন্দেলখন্ডের ১৩টি জেলার প্রায় ১১,১৭০ গ্রামে, শুধু গত মে মাসেই, জলের অভাবে মারা গেছে ৩ লক্ষ গবাদি পশু।আর তার বেশির ভাগটাই গরু। কিন্তু দেখুন এই 'গো-হত্যা' নিয়ে সঙ্গীত সোম’দের কোন মাথা ব্যথা নেই। এই গরুরা বোধহয় ‘গোমাতা’ নয়। এই গরুর মাংস খেতে বোধহয় কোন আপত্তি থাকবে না। কারণ সব গোমাতা তো আর রাজনৈতিক পশু হয় না। 'গোমাতা' তো আর বিধানসভায় আর লোকসভাতে ভোট দেয় না...! দিলে কী হতো ? মোদী জি এবার কিছু তো করতে হবে তা না হলে কোথায় তফাত ..... নেহরুর ভারত, কন্যা ইন্দিরার ভারত, পুত্র রাজিবের ভারত এর সাথে ? ! (তিন জনই ভারত রত্ন , আহা :) নেহরু নাটক করে দেশের প্রধান মন্ত্রী হয়েছিলেন যাঁর কোন গুণ ছিলো না ।চুরি বিদ্যা ও পরকীয়া বিদ্যা ছাড়া। ............ মোদী জি আপনিও কী সেই পথের পথিক ...!!

জাত গুন কার্যকারিতা

দেবপ্রসাদ বসু

মানুষটা তুমি কেমন!
যে রঙেরই পোশাক পড়োনা কেন
আলো সেই দেবে তো তোমার
ভালো-মন্দ মন।
সমর্থনের লোভে অন্যায়ের সাথে
এক এক অজুহাতে আপোষ রফাতে
তোমাকে চিনিয়েছে তবু
ক্ষমতায় আছো ব'সে
পাল্টিয়ে পাল্টিয়ে জমানা
জোয়ার-ভাঁটা পূর্ণিমা-অমাবস্যার মতন।
কখনও বা ক্ষমতার মোহে
সততাকে অযথা করেছ হেনস্থা,
ভুল বুঝিয়ে স্থায়ীত্বের পাকা করেছ ব্যবস্থা।
মানুষকে নিয়েই তো সমাজ!
সভ্যতা, ও সম্পর্কের জাল,
কাঁচা পাকা নরম কঠিন ইঁটে গাঁথা
প্রাসাদের হাল
সভ্য-ইতর গতর-ফাঁকিতে
আদিকাল হতে ধ্বংস ও নির্মিতে
এক আচ্ছন্ন মোহজাল।
তবুও সময়কে বলতে হবে, ভালো আছি,
বাঁচার স্বার্থে বিরুদ্ধ বাতাসে
কুয়াশা জন্ম নিলে ওরা বলবে,
সময়ের দোষ, পরিবেশের অসহিষ্ণু বিলাসিতা,
নিজেকে নিঙড়ে দিয়ে যত কাছে যাবে
আপনার হতে চাইবে
ততই পোড়া মাটি হবে নিষ্ফল বুধের মতো
নয়তো প্লুটো হবে নিস্পৃহ হিমশীতল নীরবতা
পাওয়া না পাওয়া চাহিদা উদাসীন
অধিকার হীন বিকলাঙ্গ স্বাধীনতা।

সূর্য বুঝি বেজায় রাগী

Sutapa Chatterjee



সূর্য বুঝি বেজায় রাগী
ভীষন যে তার তেজ 
গ্রীষ্ম কালে তার পিছনে 
গজায় আবার লেজ!
রোজ সকালে গোমড়া মুখে 
আকাশ জুড়ে থাকে
রাগ যত তার উগরে দিয়ে
গরম চোখে দ্যাখে !
যা কিছু সব সবুজ আছে
ফেলল খেয়ে সব!
কিচ্ছুটি নেই বলার জো
মিছেই কলরব
এই একটুক্ জলের ধারা
লুকিয়ে রাখা আছে
সবসময়ই ভয় লাগছে
খেয়েই ফেলে পাছে!
মনগুলো সব গরম হয়ে
করছে গড়বড়
বৃষ্টি টাকে আসতে দে না
এই সূর্য সর্!

জন্মান্তর

জন্মান্তর
সকালবেলা বাজারের থলে নিয়ে বেরোতে যাব পিছন থেকে জামায় বেয়াড়া টান.....পিছন ফিরে দেখি আমার শিশু কন্যা ঘুম থেকে চোখ মুছতে মুছতে উঠে এসেছে।
বাপি আমি ও যাব!! একি বেয়াড়া আবদার! নিষ্পাপ মুখখানি দেখে মায়াও হল। বউ রান্নাঘর থেকে জানান দিল আজ টাইমে বাজার না হলে কপালে অশেষ দুক্ষু আছে! অতঃপর মেয়েকে সাজিয়ে তাড়াতাড়ি পা বাড়ালাম.... আজ কপালে দুঃখ ই আছে! বাবু চাট্টি পয়সা দাওনা! আচমকা আবার বাগড়া সদর রাস্তায় ওঠার মুখে! এক ভিখারিনী সাথে ৪ বছরের ধুলা মাখা শিশুপুত্র! দুজনারই সর্বাঙ্গ ধুলায় মাখামাখি! মনে প্রমাদ গনলাম! আমার আর মেয়ের আজ ওই দশাই হবে যদি ঠিক টাইমে.....বাপি ওই ভাই টা এত নোংরা কেন? আচমকা মেয়ের এহেন প্রশ্নবাণে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম! সামলে নিয়ে বললাম দেখ মা! ওদের তো কেউ খেতে দেয়না...তাই ওরকম হয়ে গেছে! বাপি তোমার পকেটে যে দেখলাম এত টাকা! দিয়ে দাও না কিছু ওদের...আমাদের তো অনেক আছে। বুঝলাম খাদে পড়ে যাচ্ছি....রাগ হল! তুই থামবি পাকা বুড়ি! এই জন্য তোকে আনতে চাইনা! ধমক খেয়ে মেয়ের চোখে জল! বাপ হওয়ার যে কি জ্বালা! আজ কপালে দুঃখ অনিবার্য!
এই নাও.... দশ টাকার নোট টা দিতে খুশির ঝিলিক মারল ভিখারিনীর মুখে.....তাড়াতাড়ি মেয়েকে ঘাড়ে চাপিয়ে বাজারের দিকে পা চালিয়ে দিলাম! আজ কপালে......বাপি ওর খুব ঠান্ডা লাগছে না? ঘাড়ের ওপর থেকে মেয়ের প্রশ্ন বাণ! এবার শিওর হার্ট অ্যাটাক! বাজার আর কত দূর! বাপিইইই! কি হল? বল না! অতঃপর ঘাড় থেকে নামালাম। সাড়ে তিন ফুট প্রাণীটিকে আজ সত্যি অন্যরকম লাগছে! বাপি আমার ঠান্ডা লাগলে তুমি বুকে জড়িয়ে ধর....ওকে কে ধরে? এই প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই....মেয়েকে বুকের ওমে জড়িয়ে ধরলাম.....তুই কি চাস মা? বাপি আমার সোয়েটার টা ওকে দিয়ে দাও... আমি তোমার কোলেই থাকব। বাপি ওর খুব কষ্ট না?

বিধাতা মানুষ কে বুদ্ধিমান প্রানী করে তুলেছে.... এই প্রথম সেই থিওরি টা ভুল প্রমাণিত হল....আমি আমার মেয়েকে চিনে উঠতে পারিনি! চুলায় যাক বাজার! আজ মেয়ের চোখে আমি আমার জন্মান্তর দেখলাম! বাবা রা তাদের মেয়ের কাছে হিরো হয়! সেই বাসনা নয়! বরং বুকের গরম ওমটা একটা পিতৃহারা শিশুকে দেওয়ার জন্য মনটা কেঁদে উঠল......দূরে কোথাও ব্যাকগ্রাউন্ড এ ভেসে আসছে..."খাঁচার ভিতরে অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়".....মেয়ে আমার বুকে আরেকটু জড় হয়ে বসল! আস্তে আস্তে ঘরের দিকে পা বাড়ালাম..... ওই তো দেখা যাচ্ছে পথের ধারে দুজনকে! আমার জন্মান্তরের প্রথম সোপান!!!
© অরিন্দম নবপল্লী

প্রতিবিম্ব



প্রতিবিম্ব 

গল্পটা পড়ার পর থেকেই ব্যাপারটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে! আয়নার প্রতিবিম্বের মাধ্যমে নাকি অশরীরী কে আহ্বান করা যায়! যদিও বিয়ের পর থেকেই ওই একটাই অশরীরিণী র সাথে আমার ওঠা বসা! থুড়ি শোওয়া বসা!! আমার শোওয়ার ঘরে র জানলা দিয়ে আইপিএস এর উজ্জ্বল আলো এসে ঘরটিকে পুরো ধুইয়ে দিচ্ছে! আজ বাড়িটা আশ্চর্য রকম চুপচাপ! বউ মেয়ে নিয়ে গেছে বাপের বাড়ি! সেই অভ্যস্ত বাপি ডাকটাও কানে বাজছেনা! একটা প্রবল অস্বস্তি মনে! আয়নার সামনে চুপি চুপি এসে দাঁড়ালাম! আইপিএসের আলো আঁধারিতে নিজের প্রতিবিম্বটাকে বড় অদভুত মনে হল! গল্পে পড়েছিলাম প্রতিবিম্বের চোখের দিকে একটানা তাকিয়ে থাকলে নাকি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক স্ফিয়ার তৈরি হয় আর সেই পথ ধরেই ঘটে অশরীরী র অনুপ্রবেশ! ঘরে এক অদ্ভুত আলো আঁধারি খেলা চলছে! দূরে একটা কুকুর জোরালো ডেকে উঠল! মনে ভাবলাম বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে! কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি টান মানুষের আদিম প্রবৃত্তি! অতঃপর মনোনিবেশ দুই জোড়া চোখের মধ্যে! কি রকম যেন ঘোর লেগে গেল! কুল কুল করে ঘামছি টের পেলাম! সামনে থাকা প্রতিবিম্বটার ডান চোখ টা গেল কই? আমি অকস্মাৎ নিজের দুই চোখ ভাল করে পরখ করলাম! না তো! অক্ষত আছে চোখ জোড়া! তাহলে প্রতিবিম্বটি কার? এরকম ভয়ংকর একচোখ নিয়ে একদৃষ্টে আমাকে দেখছে! আমি আমার ডান চোখ হাত দিয়ে ঢেকে দিতে দেখি প্রতিবিম্বর চোখের কোন ইতর বিশেষ পরিবর্তন হলনা! চারদিক নিরেট নিঃস্তব্ধ! দেওয়াল ঘড়িটার টিক টিক আওয়াজ আমার বুকে এসে ধাক্কা মারছে! অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগের মুহুর্তে টের পেলাম সদর দরজা আস্তে আস্তে খুলছে! আর একটা নারী শরীর দৌড়ে এসে আমাকে তার নরম কোলে জড়িয়ে ধরল! তারপর আর কিছু মনে নেই!

আধো ঘুম জাগরণে কানের কাছে বাপি ডাক শুনে চমকে উঠলাম! তাকিয়ে দেখি মেয়ে জল ভরা ডাগর চোখে আমার দিকে চেয়ে আছে! আর গিন্নী মাথায় বাতাস করছে! তুমি কি গো? এরকম চোখ উলটে ভিরমি খেলে কেন গো? ভাগ্যিস দেখেছিলাম! ক্যাবলার মত শুধালাম তুমি কোথা থেকে এলে?

-আর বোলোনা! মেয়ে এক মুহুর্ত মামাবাড়ি থাকল না! বাপি বাপি করে পাগল করে দিল!

-আর ছায়াটা??? ডান চোখ ছিল না তার!!!!

- কি ভুলভাল বকছ? এখানে কেউ নেই!

- আরে ওই আয়নায়!

- ওখানে তো আমার ম্যাক্সি টা ঝুলছে! ছায়া আসবে কোথা থেকে???

- ক্কিইইই! ম্যাক্সি????? ওই ম্যাক্সিটার জন্যি প্রতিবিম্ব র ডান চোখ দেখতে পাইনি!!"!!!!!!

মরণ দশা!!!!!!

ঘুরে দাঁড়িয়ে গিন্নী কে বললাম তোমার ম্যাক্সি দেখেই প্রতিবিম্ব চোখ মারছে! পাড়ার ছেলেগুলোর দোষ কোথায় বল?

মা মেয়ের ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া মুখের সামনে দিয়ে বীরদর্পে রাস্তায় বেরিয়ে গেলাম! আর সাথে আমার সেই এক চোখো প্রতিবিম্ব! 💜💜💜😛

@ অরিন্দম নবপল্লী







তন্বী

তারিখ ৪.১২.২০১৬। স্থান হাবড়া চৈতন্য কলেজ। সময় সকাল ১০ টা....কলেজ প্রাংগনের সবুজ মাঠে নবাগত নবাগতা তরুণ তরুণী দের ভিড়।জীবন যুদ্ধে পোড় খাওয়া মুখ গুলোও আছে। পড়ায় মন বসছেনা। ধুর শ্লা.....পড়ে কলা হবে। জানি পারবনা। তাও টেনশন টা মাইরি বেয়াক্কেল এর মতই চেপে বসছে। আর পারছি না......আচমকা পাশ থেকে জুই ফুলের সুবাস....এক্সকিউজ মি! পিজি বিল্ডিং টা কোথায়? মন জুড়িয়ে কথা তুতলিয়ে কিছু একটা বেরোতে চাইল গলা দিয়ে! কিন্তু কপাল গোবর্ধন! ঈষৎ হেসে তন্বী এগিয়ে বসল ঘাসে।আমি বোকার মত চেয়ে থেকে সরে এলাম। এসব সবার জন্য নয়! ৫৫ টা হার্ডল পেরোতে হবে। মুনিদের ও তপস্যা ভাঙাতে অপ্সরী দের তলব হয়েছিল।
চা দেবো নাকি.....চা গরম চা! আচমকা আওয়াজে সম্বিৎ ফিরতে দেখি তন্বী অন্যদিকে তাকিয়ে ব্যাগ হাতড়াচ্ছে.....সানগ্লাস খোলেনা কেন? চাওয়ালা ধীর গতিতে তার হাতে ভাড় টা ধরিয়ে দিল। কাকা, ব্যাগ থেকে পয়সা টা নিয়ে নাও কষ্ট করে...আমি তো.....
থাক দিদি বলতি হবেনা। আমি নিতিছি। চাওয়ালা কথা বলতে দেয়না.।। আমি ধীরে ধীরে তার সামনে এসে বসলাম।।। রাইটার আছে? প্রশ্নের জবাবে মধুর হাসিতে জানান দিল। দূরে ঘণ্টা বাজছে।। বাজছে আমার মনেও....বিদায় তন্বী। ঈশ্বর এর কাছে কামনা করি তুমি সুখী হও। জীবনের সব হার্ডল তোমার কাছে হার মানুক। সেদিন আমিও হার মানব তোমার ওই অপলক দৃষ্টির কাছে
©অরিন্দম

কায়াহীনের কাহিনী

অরিন্দম



বউ এর জেদাজিদি তে বাধ্য হয়ে লোন তুলে বাড়িটা কিনেই ফেললাম একপ্রকার!মিথ্যে বলব না! শহরের যান্ত্রিক জীবনে নিজেও ক্রমশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম! বসবাস করছিলাম ফ্ল্যাটে! জীবনের স্বাদ সেখানে কেমন সেটা বলাই বাহুল্য! এতটুকু স্বাধীনতা বলে কিছু নেই! জোরে গান শোনা যাবে না! বউএর সাথে উঁচু গলায় কথা বলা যাবেনা! পাশের ফ্ল্যাটের দত্ত বাবু আবার হার্টের পেশেন্ট!!! সেদিন
ফ্ল্যাটে সদ্য কেনা বুম বক
্স টায় উচ্চ মার্গে রবি ঠাকুরকে স্মরণ করছি😂 আচমকা পাশের বাড়ি থেকে কাজের মেয়েটি বলে গেল - দাদা আস্তে শুনুন! দাদাবাবুর ঘাম হতিছে!
আরে ঘাম হোক! চুলকানি হোক! ফোঁড়া হোক! তাই বলে এভাবে....??? নাঃ! এভাবে আর চলেনা!
সেদিন রাতে প্রিয়তমার সাথে একটু দুষ্টুমি চলছিল অমনি কলিং বেল! খুলে দেখি দত্ত গিন্নী! হাসি লাজুক মুখ করে বলল - কিছু মনে করবেন না! আমার কত্তা আবার হার্টের পেশেন্ট তো! কোনরকম উত্তেজনাই ওনার পক্ষে সহ্য হয় না! কাজেই....!!! উনি চলে গেলে খানিকক্ষণ গুম মেরে দাঁড়িয়ে রইলাম! বিছানায় এসে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম! ঘুম আর প্রেম দুই ই গেল! বউ ও বোধ করি ব্যাপারটা বুঝেছিল!! পরদিন সকালে উঠেই বেয়ারা আব্দার বউ এর
- শোনো! এই ফ্ল্যাটে আর থাকব না! অন্য কোথাও নিরিবিলিতে বাড়ি নাও! দুজনেই সার্ভিস করি! লোন পেতে অসুবিধা হবে না!
- আবার এত গুলো টাকার ধাক্কা! কি করে......কথা শেষ করতে দেয় না আমার মেয়ে! পাশে শুয়ে আদুরে হাতে আমার গলাটা জড়িয়ে ধরে বলে - ও বাপি! প্লিজ মায়ের কথা মেনে নাও না! আমারো এখানে কেমন যেন দম আটকে আসে! প্লিজ বাপি প্লিজ....!!
- একদিকে মেয়ের আবদার আরেকদিকে গিন্নীর মান রাখতে অগত্যা লোন তুলে বন্ধু অখিল কে বললাম ভাই একটা জমি সহ বাড়ি দেখ! নেব!
- এহেন প্রস্তাবের জন্য বন্ধুবর বিন্দুমাত্র প্রস্তুত ছিল না! শুনে আকাশ থেকে পড়ল! সেকিরে ভাই! ফ্ল্যাট ছেড়ে দিবি?
- না ফ্ল্যাট থাকুক! তুই যেটা দেখতে বললাম সেটা দেখ! আজকেই দেখ! খবর না নিয়ে আসলে ডিভোর্স তোতে আমাতে!
- এ ত খুব সিরিয়াস কেস রে ভাই! দাঁড়া একটা ব্যাবস্থা করছি! বলে হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে গেল!
- চুল খাড়া করে ফিরল ঘন্টা দুয়েক পর! এসে বলল বৌদি জল দাও! মরে যাব আজ! যা গরম পড়েছে! বাড়ি খোঁজা কি মুখের কথা?
- যাত্রা বন্ধ করে আসল কথা বল! পেলি? আমার কথায় অখিল যেন একটু আহত হল মনে হল! বলে
- হ্যাঁ পেলাম বলে আমাকে পাত্তাই দিল না! বৌয়ের দিকে ফিরে শুরু করল
- হ্যা বোউদি যা বলছিলাম! দোতলা বাড়ি, সামনে বেশ কয়েকটা ফাঁকা জায়গা জুড়ে বাগান আর প্রচুর গাছ গাছালিতে ভর্তি! তুমি যেমন চেয়েছিলে তেমনটিই!
- বউ ভক্তিতে গদগদ হয়ে বলে উঠল সত্যি ঠাকুরপো তোমার এই বন্ধুটি একটা ঢ্যাঁড়শ! একটা বাড়ি বদলাবার কথা বলে আসছি এত কাল ধরে বাবু পাত্তাই দিল না!
- অখিল গ্যাস পেয়ে আমার দিকে আড় চোখে তাকিয়ে দেখল অবস্থা ভাল নয়! যেকোনো সময়ে পিঠে প্রহার আছড়ে পড়তে পারে! তাই তাড়াতাড়ি বলে উঠল নাহ! বোউদি আমি আসছি!ওদিকে আমার বউটাও পথ চেয়ে বসে আছে! বলে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আমাকে বলল আজ ই দেখা করে বুক করে আয়! পরে হাতবদল হয়ে যেতে পারে! আমি হাতের কিছু পাওয়া যায় কিনা খুঁজছিলাম! ও সেটা বুঝতে পেরেই দে দৌড়! বউ এর হাসিতে চটকা ভাংল! সত্যি তোমরা পার বটে দুই বন্ধুতে!
- অতঃপর বিকেলে তিনজনে সেজেগুজে বাড়ি দেখতে গেলাম! কাঁঠালিয়া বাসস্টপ এ যখন নামলাম সন্ধের আঁধার ঘনিয়ে এসেছে! আশেপাশের গাছগাছালির ফাঁক থেকে পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ ভেসে আসছে! আমাদের বন্ধুবরের বলে দেওয়া ঠিকানায় যেতে যেতেই আরো ত্রিশ মিনিট লেগে গেল! যেরকম প্রত্যাশা করেছিলাম জায়গাটা তার থেকে বেশীই নির্জন! আচমকা ডান হাতে টান পড়তেই দেখি মেয়েও ভয়েতে আমার বগলের তলায় সেঁধিয়ে যাচ্ছে! বউ এর দিকে তাকিয়েও সাহস পাওয়ার মত কিছু দেখলাম না! দেখলাম প্রিয়তমা র চোখদুটো ভয়ে বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে উঠেছে! যাই হোক! মনে মনে বললাম নিরিবিলি চেয়েছিলে না! বেশ হয়েছে!! কিন্তু সাথে আমিও তো ফাঁসলাম! আধভাঙা গেট টাকে সরাতেই বিশ্রী ক্যাঁচক্যাঁচ আওয়াজ করে পুরোটাই খুলে গেল! ভিতরটা বেশ পরিষ্কার......বেশ বাগান বাগান লাগল! অনেক গাছ গাছালিতে ভর্তি! ভিতর দিয়ে অল্প উঁচু করে মোরাম বিছানো রাস্তা! একটু দূরেই গোলাপি রঙের দোতলা বাড়িটা ভূতের মত দাঁড়িয়ে আছে! আর তার ঢালু বারান্দায় হ্যারিকেন হাতে আর অমায়িক হাসি মুখে এক ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে! আমাদের দেখেই অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এল! নমস্কার প্রতি নমস্কারের পালা শেষ হবার পর জানতে পারলাম মালিকের নাম অঘোর চন্দ্র রাউত! তার তেজারতি র কারবার ছাড়াও আরো দুই জায়গায় বাড়ী আছে! থাকেন ত্রিবেণী তে! এই বাড়ী কেন ছেড়ে দিলেন বিক্রি র জন্য সে কথা শুধাতেই ভদ্রলোক কিরকম যেন গম্ভীর হয়ে গেলেন! গোমড়ামুখে বললেন "আসুন ভিতরে ঘরগুলো দেখাই, আমাকে আবার তাড়াতাড়ি এই জায়গা থেকে বেরোতে হবে"! শেষ কথাটায় কিরকম যেন একটা খটকা লাগল! যাই হোক সপরিবারে ভিতরে ঢুকে দেখি বেশ সাজানো গুছানো ছিমছাম! স্ত্রী র যেটা সবথেকে ভাল লাগল বাড়ির পিছন দিকে দরজাটা খুললেই শান বাঁধানো বড় কলতলা! পাশেই একটা মজে যাওয়া কুয়ো! ব্যাবহার হয় না বলে অঘোর বাবু জানালেন ওটা পাত দিয়ে ঢাকা দেওয়া আছে! আর যেটা সবথেকে অবাক লাগল কুয়োর পাশেই উঠে গেছে এক বিশাল পাকুড় গাছ! উপরে সেটা শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে গোটা বাড়িটিকে প্রহরীর মত ঘিরে রেখেছে!
- হেঁহে! বুঝলেন দাদা! এই বাড়িটার এইটাই বিশেষত্ব! অত্যাধিক গরমেও বাড়ির ভেতর টা খুব ঠাণ্ডা! আমি খেয়াল করলাম উনি বলার মাঝে মাঝেই পাকুড় গাছের উপরের ডালপালার দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টি মেলে দেখছেন! আর একটা আশ্চর্য ব্যাপার! বাকি গাছ গুলো থেকে অজস্র পাখির কিচিরমিচির ভেসে এলেও এই গাছটি অদ্ভুতরকম শান্ত! সব দেখেটেখে গিন্নী কে বললাম কই গো কিছু বল! পছন্দ হল কিনা কিছুই তো বললে না! হঠাৎ খেয়াল হল মেয়ে কই!!! আবিষ্কার করলাম মেয়ে কলতলায় দাঁড়িয়ে পাকুড় গাছটার দিকে চেয়ে একমনে কি দেখছে!চোখ দুটি যেন বিস্ফারিত হয়ে গেছে তার!! আমি হাঁক দিলাম- কিরে! কি দেখছিস! এদিকে আয়! আড় চোখে দেখলাম অঘোর বাবুর মুখেও একটা চাপা আতংক ফুটে উঠেছে আর বিড়বিড় করে কি যেন বলছে! একটু কান পেতে শুনলাম ভদ্রলোক হনুমান চালিশা বলে চলেছে! শুনে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল! মেয়ে দৌড়ে আমার কাছে এসে বলল - জান বাপি আমি না গাছে স্পষ্ট দেখলাম কে যেন বসে আছে! অঘোরবাবু শোনামাত্র প্রসংগ ঘুরিয়ে বলল- তা এই বাড়ি পছন্দ হয়েছে তো? এগ্রিমেন্ট টা সেরে ফেলি বলুন! আমি বললাম কতটে ফিক্সড হলেন বলুন?
- আজ্ঞে পনেরো তে পাকা কথা! আমি যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! এত কম দাম! লোন তো তার চেয়েও বেশি! আমি আর গিন্নী মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলাম! অঘোরবাবু আমাদের ইতস্তত অবস্থা দেখে বলেন- দাম একটু বেশি হয়ে গেল না? আচ্ছা বার ই দেবেন! হলপ করে বলছি এত কম দামে এত বড় বাগান বাড়ি আর কোথাও পাবেন না! বলার মাঝে লক্ষ করলাম তিনি আবারো কলতলার দিকে ভয়ার্ত দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন! অবশেষে এগ্রিমেন্টে সই সাবুদ করে যখন বাগানের ভিতর দিয়ে মোরাম বিছানো রাস্তায় হাঁটছি তখনই ঘটল ঘটনাটা! কলতলা থেকে এক অদ্ভুত ঝপাং করে একটা আওয়াজ ভেসে এল! সাথে একটা বাচ্চার আর্ত কান্না! থমকে দাঁড়ালাম! কি হল ব্যাপারটা! অঘোরবাবু পিছনেই আসছিলেন! তিনিও আওয়াজ টা শুনেছিলেন বোধকরি! তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে বললেন শকুনের বাচ্চা কাঁদছে মশাই! এরকম আওয়াজ শুনলে রাতবিরেতে হামেশাই মানুষের বাচ্চার কান্নার আওয়াজ বলে ভ্রম হয়!
- আর ওই জলের আওয়াজ টা! মজা কুয়ো থেকে এল মনে হয়!
- না না ও কিছু নয়! ভুল হতে পারে! চলুন এগিয়ে দিয়ে আসি!
অতঃপর সেদিন রাতে বাড়ি ফেরার পর গিন্নীর প্রথম কথা শুনলাম - ওগো! বাড়িটা যেন কিরকম! সবকিছু ঠিক! কিন্তু কলতলাটা......!
- দেখো! যা পেয়েছ এর চেয়ে কম দামে কিছু পেতে না! বলে হঠাৎ মনে পড়ল মেয়ের সেই অদ্ভুত কথা! মেয়েকে তৎক্ষণাৎ ডেকে শুধালাম-হ্যারে! কি দেখেছিলি তুই গাছে?
- বাপি! আমি স্পষ্ট দেখলাম গাছে কেউ বসে আমাকে দেখছিল! বলার সময় লক্ষ করলাম মেয়ের গলার স্বরটা একটু কেঁপে গেল!
- যাঃ! হনুমান হবে হয়ত!
- না বাপি! লম্বা চুল ছিল! উড়ছিল হাওয়ায়!!
- কি যে বলিস না! ঘুমাতে যা! মেয়েকে তো পাঠিয়ে দিলাম! কিন্তু মনের কোথাও একটা কু ডাক ডাকছিল! জানিনা এর পরিণতি কি হবে!
- অবশেষে একটা শুভদিন দেখে জিনিষপত্র লোড করে নতুন বাড়িতে এলাম! সামনের বড় বাগানটাকে পরিষ্কার করতেই দু দিন লেগে গেল!! সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার বাগান পরিষ্কার করানোর লোক পেয়েও তাকে দিয়ে কিছুতেই কলতলা পরিষ্কার করাতে পারলাম না! চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট!!! এই ভয়ই দেখেছিলাম অঘোরবাবুর চোখে! মনটা কেন জানিনা কু ডেকে উঠল! ভয়ে ভয়ে কলতলাটার দিকে তাকালাম, দিনের উজ্বল আলোতে ও পাকুড় গাছের ছায়ায় কলতলাটা খাঁ খাঁ করছে! গিন্নী রান্নাঘরে কি একটা বসিয়েছে! মেয়েটা কোথায় জানি কি করছে! আমি লোকটিকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে আসছি আচমকা নজরে এল কলতলায় পাকুড় গাছটার নীচে কি একটা পড়ে আছে লাল মতন! গিয়ে হাতে নিয়ে দেখলাম একটা পুরোনো পুতুল! সুতো বেরিয়ে গেছে, একটা চোখ নেই! পায়ের অর্ধেক টাই ছেঁড়া! একটু অবাক হলাম! মেয়ের পুতুল খেলার বয়স।তো নেই! তাহলে কি গিন্নী??? যাহ্‌!!! তা কি করে হয়??? আমি রান্নাঘরে ঢুকে দেখি গিন্নী পিছন ফিরে কি একটা রান্না করছে! আমি শুধালাম কি গো? এই পুতুল টা এল কি করে এখানে? মস্করা করে বললাম তুমি খেল না কি? গিন্নীর কোন ভাবান্তর দেখা গেলনা! আমি রেগেমেগে ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদে উঠতেই চিলেকোঠার দরজা ঠেলে গিন্নী নেমে এল! আমার শিঁড়দাড়া বেয়ে একটা হিম স্রোত নেমে গেল! তাহলে রান্নাঘরে কে! আমাকে ভূতের মত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে গিন্নী মারল ঠেলা!
- হাঁ করে কি দেখছ!
- তুমি ছাদে ছিলে?
- হ্যাঁ
- তাহলে রান্নাঘরে কে?
- আমি ছাড়া এখানে কে থাকবে! কি সব ভুলভাল বকছ?
- বুঝতে পারলাম কিছু একটা অমঙ্গল হতে চলেছে! তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম মেয়ে কোথায়???
- মেয়ে তো বাগানে! দোলনায় দোল খাচ্ছে!
আমি তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখলাম বাগানের উত্তর পশ্চিম কোণে একটা দোলনায় মেয়ে আপন মনে বসে আছে! আরেকটা ব্যাপার লক্ষ করে শিড়দাঁড়া বেয়ে হিমেল স্রোত নেমে গেল! দোলনাটা আপনমনে দুলছে! মনে হচ্ছে পিছন থেকে কেউ যেন ঠেলে দিচ্ছে তাকে!! আতংকে চিৎকার করে উঠলাম! তিতলি উঠে আয় বলছি! অমনি দোলনাটা থেমে গিয়ে মাথার উপরে যত গাছ গাছালি ছিল আলোড়ন হতে লাগল! আচমকা ঘরের ভিতর থেকে বউ এর আর্ত চিৎকার ভেসে আসল! মরণ আর্তনাদ যেন! আমি মেয়েকে কোলে করে নিয়েই ছুট ঘরের দিকে! গিয়ে দেখি বউ কলতলার দিকে স্তম্ভিতের মত আঙুল তুলে দাঁড়িয়ে আছে! যেন কিছু দেখাতে চাইছে! আমি চারদিকে চেয়ে কিছু দেখতে পেলাম না! দুই ঘন্টা পর বউ একটু ধাতস্থ হবার যা জানা গেল তা সত্যি ভয়াবহ! বউ রান্নাঘরে খুন্তি নাড়তে নাড়তে টের পাচ্ছিল চিলেকোঠা থেকে কে যেন ধীর পদে নেমে যাচ্ছে সিঁড়ি দিয়ে! ভাল করে তাকিয়ে দেখল একটা মাঝ বয়সী মেয়েছেলে গায়ে ছেঁড়া কাপড় মুখটা নীচের দিকে নামানো আর সারামুখ অবিন্যস্ত চুলে ঢাকা! বাঁ হাতে একটা সাত আট বছরের মেয়ে হাত ধরে ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে কলতলায় কুয়োটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে! বাচ্চাটার নাক দিয়ে ক্রমাগত টুপ টাপ করে ঝরে পড়ছে! রক্তের ফোঁটা!!
আমার কাছে ধীরে ধীরে গোটা ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেল! কেন অঘোরবাবুর চোখ মুখ ভয়ে পাংশু হয়ে গেছিল,কেনই বা তিনি এত দাম কমালেন,আর কেনই বা লোকটা কলতলা পরিষ্কার করতে চায়নি! আর এক মূহুর্ত এখানে থাকা চলেনা! বউকে বললাম তাড়াতাড়ি জিনিষ গুছিয়ে নাও বেরিয়ে চল এখান থেকে!
জিনিষ পত্র গুছাতে লাগলাম চাপা আতংকের সাথে! মনে থেকে থেকে একটা প্রশ্ন কেবলই ধাক্কা দিতে লাগল অঘোর বাবু কি এসব কিছুই জানতেন না? নাকি জানতেন বলেই এত কম দামে বাগান বাড়ি টা বিক্রি করে দিলেন? ওই মহিলার সাথে বাচ্চাটার রহস্য কি? কেন তারা বার বার দেখা দিচ্ছে? শেষ কথাটি মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল!!
ওরা যে কায়াহীন সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই! কিন্তু ওরা এখন পর্যন্ত আমার বা পরিবারের কারুর অনিষ্ট করেনি বা করতে চায়নি! তাহলে বারবার তাদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে কেন? কুয়োটার সাথে এসবের কি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়ে গেছে কোথাও! এসব ভাবছি আচমকা বউ এর আর্তনাদ ভেসে এল ডাইনিং রুম থেকে! তাড়াতাড়ি গিয়ে দেখি মেয়ে আর গিন্নী দোতলার সিঁড়ির দিকে পান্ডুর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে! আমি কথা বলতে গেলেই গিন্নী আমার হাত চেপে ধরে চুপ করার ইশারা করল! আর উপরের ঘরের দিকে আঙুল তুলে কি একটা দেখাতে চাইছে! মুখ তুলে যা দেখলাম রক্ত হিম হয়ে গেল!!
দেখলাম দোতলার করিডোর এর লাইট টা জ্বলছে আর নিভছে! আর দোতলা থেকে মেয়ের খেলার ফুটবল টা আস্তে আস্তে সিঁড়ি দিয়ে নামছে! গড়িয়ে নামা নয়! রীতিমত লাফিয়ে লাফিয়ে! মনে হয় কেউ বলটাকে ভলিবলের মত ড্রপ খাওয়াতে খাওয়াতে নামিয়ে আনছে! মেয়েকে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরলাম! বলটা ঠিক এসে আমাদের পায়ের কাছে থেমে গেল! পাশে গিন্নী রীতিমত থকথক করে কাঁপছে! আমি আস্তে করে বলটাকে হাতে তুলে নিলাম! বুকটা ঢিপঢিপ করছে! আচমকা আমার মনে কি একটা বুদ্ধি খেলে গেল! মেয়েকে বলটা দিয়ে বললাম তুই ছুঁড়ে মার দেখি বলটা দোতলায়! মেয়ে দেখি ভয়ে বড় বড় চোখ করে বলল কি বলছ বাপি?
- আরে ছোঁড় না!
- মেয়ে বলটা ছুঁড়তেই অবাক কান্ড! সেটি আবার আগের মতন সিঁড়ি দিয়ে লাফিয়ে নামতে লাগল! আমার মুখে একটা হাসির ঝিলিক খেলে গেল! গিন্নী কে বললাম জিনিষপত্র যা বের করেছিলে গুছিয়ে রাখ! এই বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার দরকার নেই! গিন্নীর অবস্থা তথৈবচ! আমি অবস্থাটা সামলে বললাম আমাকে বিশ্বাস রাখ! কারুর কিছু হবেনা! বলে দোতলার দিকে মুখ করে বলে উঠলাম
- দিদি! ভাইয়ের মত বলছি আমরা তোমার কোন ক্ষতি চাইনা! কিন্তু প্লিজ আমাদের কোন ক্ষতি কোরনা!! একটা জিনিষ বুঝতে পারছি কিছু একটা বলতে চাইছ! প্লিজ সামনে এসে বল! ভাই হয়ে যদি কিছু করতে পারি!
- বলার সাথে লক্ষ করলাম দোতলার লাইট টার জ্বলা নেভা কমে গিয়ে কলতলার পাকুড় গাছটায় প্রচন্ড আলোড়ন শুরু হল! রান্নাঘরের দরজা দুমদাম শব্দে একবার খুলতে আরেকবার বন্ধ হতে লাগল! কানে এল সেই পরিচিত পায়ের আওয়াজ! দেখলাম এক অস্পষ্ট নারীমূর্তি হাতে একটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করল ঘরে! ঠিক সেই সময়ে ঘরের ভোল্টেজ টাও ডাউন হয়ে এক অদ্ভুত আলো আধারির খেলা চলছিল! স্পষ্ট দেখলাম নারীমূর্তি টি আমার গা ঘেঁষে দাঁড়িয়েছে! একটা অদ্ভুত ফ্যাঁসফেসে গলায় বলল- ভয় পেয়োনা গো! আমার খুব কষ্ট! আমার মেয়েটাকে ও নির্মম ভাবে মেরে ফেলেছে! আমি শুধু অসহায়ের মত চেয়ে দেখেছি! কিছু করতে পারিনি!
- আমি বোবা গলায় বলতে চেষ্টা করলাম তোমার মেয়েকে কে মেরেছে দিদি?
- একটা ফ্যাঁসফেঁসে গলায় যে নামটা ভেসে এল সেটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না আমি! নামটা পরিষ্কার শুনলাম
- অ--ঘো---র!!!!!! আমার সামনে গোটা দুনিয়া টা দুলে উঠল! অঘোর বাবু!!! জমির মালিক??????
- ছায়ামূর্তি টি তার মেয়েটির মাথায় হাত বুলিয়ে শুরু করল তার দুঃখ ভরা জীবনের ইতিহাস! সে জন্মসূত্রে ওপার বাংলার মেয়ে! পেটের টানে তার এখানে আসা! ঘটনাসূত্রে তার অঘোরের সাথে আলাপ! লোকটা তার শরীরে উপর প্রথম থেকেই আসক্ত ছিল! নানা ছলে বলে কৌশলে তার কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করত! কিন্তু সে তার এই বাগান বাড়িতে দেখাশোনার কাজে নিযুক্ত হয়েছিল! সেটা ছেড়ে অন্য কাজ দেখাও ছিল দুষ্কর! একদিন সুযোগ পেয়ে অঘোর তার সাথে জোর করে মিলিত হয়!
- কথাগুলো বলার মাঝখানে লক্ষ করলাম তার গলার স্বর একটু কেঁপে গেল!আমি জিজ্ঞাসা করলাম তারপর??
- একটু থেমে আবার শুরু করল
- শয়তান টা আমার গর্ভে সন্তানের জন্ম দিয়েও একদিনের জন্যও তার পাশবিক অত্যাচার বন্ধ রাখেনি! অনেক কষ্টে মেয়েকে ওর মারের হাত থেকে বাঁচাতাম! মেয়েটা আমার দুধ খেতে চাইলে দিতনা! জোর করে ঘরে বন্ধ করে রাখত! কতবার মেয়ে খিদেতে কেঁদে উঠত! বলত মা খাব খিদে লেগেছে! ওই শয়তানের মন গলেনি! লাথি মারত ওর নরম শরীর টাকে! একদিন এরকম ই খিদের চোটে খুব কাঁদছিল! অঘোর শয়তান টা এসে সবার আগে কলতলায় মেয়ের ছোট্ট শরীর টাকে টানতে টানতে নিয়ে যায়! তারপর নরম ছোট্ট তলপেটে এক লাথি কষিয়ে দেয়!
- অসহায়ের মত দেখলাম আমার সোনার ছোট্ট শরীর মা-আ-আ ডাক ছেড়েই নেতিয়ে পড়ে! নাক দিয়ে বেয়ে পড়ছে আমার ই রক্ত! রক্ত বের করে দিয়েছে! মেরে দিল আমার কলজেটা কে! কিছু করতে পারলাম না! কিছু না! ছায়ামূর্তিটি ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল!
- অসম্ভব নীরবতায় ছেয়ে গেল চারদিকে! আমি টের পেলাম আমার চোখ দুটো দিয়ে টপ টপ করে জল পড়ছে! আস্তে আস্তে বাচ্চাটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসলাম! উস্কোখুস্কো চুল টা যেন স্পর্শ করতে পারছি মনে হল! আস্তে করে চুল গুলো মুখের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়ে মুখটা দু হাতের মধ্যে নিয়ে একটু উঁচু করে আলো আঁধারিতে দেখলাম কি কচি মুখটা! কি নরম! আর নাকের পাশ দিয়ে টাটকা গড়িয়ে পড়ছে রক্তের ধারা! আমার বুকটা ফেটে গেল যেন! বললাম
- খাবি মা? খিদে পেয়েছে?
- বাচ্চাটি কিছু না বলে শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল! আমি তাড়াতাড়ি ফিরে গিন্নী কে কিছু বলতে যাব দেখি গিন্নী ফ্রিজ থেকে যত খাবার ছিল সব সাজিয়ে রাখছে মাটিতে! চোখ দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা জল মাটি ভিজিয়ে দিচ্ছে! আমার বউ কাঁদছে! বুঝলাম ছায়া থেকে কায়া এই পরিসিরে মাতৃহৃদয়ের বিবর্তন হয় না! মা মা-ই থাকে! অদৃশ্য ভোজ বাজির মত মাটিতে রাখা খাবার গুলো নিমেষে অদৃশ্য হয়ে যায়! তারপরেই শোনা যায় কলতলায় জলের আওয়াজ! নিমেষে সব বাসন কোসন ঝক ঝকে রূপ নিয়ে রান্নাঘরের সঠিক জায়গায় সজ্জিত হয়ে যায়! ছায়ামূর্তিটি বলে আমি তোমাদের প্রথম দিন দেখেই বুঝেছিলাম তোমরা মানুষ খারাপ না! প্রতিশোধ নেবার জন্য দিন গুনছি! জানোয়ার টা আমার মেয়েকে মেরে ছোট্ট শরীরটা ওই কুয়োতে ফেলে দিয়েছে! ওখান থেকে উদ্ধার না করতে পারলে আমার মুক্তি নেই!
- শুনে আমার কিরকম যেন ঘোর লেগে গেল! বললাম দিদি ওই জানোয়ার কে আমি নিয়ে আসব! তোমার মেয়ের অন্তিম সৎকার আমি করব! এরকম জানোয়ারের বেঁচে থাকার অধিকার নেই! মূর্তিটি একটু হাসল! তারপর মেয়েকে নিয়ে আস্তে আস্তে পাকুড় গাছটার দিকে এগোতে এগোতে বলল- ও হ্যাঁ! এই অভাগিনীর নাম সরলা! নাম বলবে! চিনতে পেরে যাবে! বলার সাথে সাথে অদৃশ্য হয়ে যায় দুটি শরীর! আর কুয়োর ভিতর থেকে ভেসে আসে ঝপাং করে এক শব্দ! কায়াহীনের আবাস স্থল!!!!!
- পরের দিন সকালেই ফোন করলাম অঘোর বাবুকে! জানোয়ার টার গলার আওয়াজ শুনেই পা থেকে মাথা পর্যন্ত জ্বলে গেল! কিন্তু বুঝতে দেওয়া চলবে না! যতটা সম্ভব নিজেকে শান্ত রেখে বললাম এগ্রিমেন্টের একটা ব্যাপার নিয়ে কিছু বলার ছিল! আপনি সন্ধের দিকে আসুন না!
- শুনে কিরকম যেন থতমত গেয়ে গেল অঘোর চন্দ্র রাউত! বলল ইয়ে মানে সকালে গেলে হয় না?
- কেন কোন সমস্যা আছে নাকি?
- হ্যা মানে....না.....মানে ইয়ে....সকালে করা যায় না?
- না যায়না! কঠোর বাক্যে জানিয়ে দিলাম! আসতে হলে সন্ধে বেলাতেই আসতে হবে! আমার কাজ আছে এখন!তাই সকালে হবে না!
- আচ্ছা ঠিক আছে! আসবখন! কিন্তু তাড়াতাড়ি ছেড়ে দিতে হবে! এতটা রাস্তা যেতে হবে ত!
- আচ্ছা আপনি এত তাড়ায় থাকেন কেন বলুন তো? সেদিন ও তাড়ায় ছিলেন! আজো এত তাড়া আপনার!
- না কিছুনা! আচ্ছা আপনাদের ওদিকে সব ঠিক তো! কোন অসুবিধা নেই ত?
- এবার একটু সাবধান হয়ে গেলাম! হারামী টা খেলছে বুঝলাম! বললাম না না কোন সমস্যা নেই! এত সুন্দর পরিবেশ ভাবাই যায় না!
- বলার সাথে সাথে পাকুড় গাছটার থেকে একটা চাপা খিল খিল হাসির আওয়াজ ভেসে এল!
- আচ্ছা কে হাসছে বলুন তো?হাসির আওয়াজ শুনলাম! অঘোরের কন্ঠে ভয়!
- ও কেউ না! আপনি আসুন! আমার কাজ আছে! সন্ধেবেলা দেখা হচ্ছে! বলে লাইন টা কেটে দিলাম!
- আড় চোখে বাগানের কোনায় চেয়ে মেয়ে দোলনায় বসে আছে! আর দোলনাটা আপনা আপনি হাওয়ায় দোল খাচ্ছে! বুঝলাম ছায়া আর কায়ায় খেলায় মেতেছে! এই খেলাই মরণ খেলায় বদলে যাবে আজ রাতে! পাকুড় গাছটার দিকে তাকালাম! দেখলাম কি একটা সড়াৎ করে উপরে উঠে গেল! কুয়োর কাছে গিয়ে দেখি ঢাকনিটা তালা দিয়ে বন্ধ করা আছে! রাগে আমার সর্ব শরীর কাঁপতে লাগল! আর কাল বিলম্ব না করে থানায় গিয়ে বড় বাবুকে সবিস্তারে সব বর্ণনা করলাম! শুনতে শুনতে বড় বাবুর চোখ বিস্ময়ে ঠিকড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছিল! ঠিক হল আসামীকে বেঁধে থানায় ফোন করলেই পাঁচ মিনিটের মধ্যেই দলবল নিয়ে হাজির হবেন! ফিরে গিন্নীকে বললাম ব্যাবস্থা হয়ে গিয়েছে! সবাই যেন তৈরি থাকে! বলার সাথে সাথে টের পেলাম রান্নাঘরের দরজা টা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল! বুঝলাম দিদি ও যা বোঝার বুঝে নিয়েছে! আজ রাতেই নাটকের যবনিকা পতন হবে!
সময় যত এগিয়ে আসতে লাগল ততই একটা চাপা টেনশন বাড়িটা কে আস্তে আস্তে গ্রাস করছিল! দূরের ঝোপঝাড়ের মধ্যে কি একটা চাপা আতংক থম মেরে আছে! গাছের পাতাগুলো ও আজ অদ্ভুত রকম ভাবে নির্বাক নিশ্চুপ!
অবশেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধের আঁধার ঘনিয়ে এল ভুতুড়ে বাড়িটাকে ঘিরে! বউ মেয়েকে আগে থেকে বলে দেওয়া ছিল তারা যেন বাইরের ঘরে থাকে! কোনরকম কিছু হলে দ্রুত বাইরে বেরোতে পারে! ভুলেও কলতলার ছায়া যেন না মাড়ায়!
আড়চোখে পাকুড় গাছ টার দিকে তাকিয়ে দেখলাম বড় বড় ডালপালা নিয়ে ঘন পাতার অরণ্যে বিভীষিকাময় চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে! আশেপাশে তাকিয়ে সরলাকে কোথাও দেখতে পেলাম না!
আচমকা কানে এল গেট খোলার আওয়াজ! মনটা অশান্ত হয়ে উঠল আচমকা! জানোয়ারের আবির্ভাব ঘটেছে! আচমকা পাকুড় গাছটায় ঠান্ডা হাওয়া খেলে গেল! বুঝলাম শিকারি বুঝেছে শিকার আসছে! স্বাভাবিক হয়ে বেরিয়ে দেখি অঘোর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে আসছে! কিন্তু তার হাঁটার মধ্যে কেমন যেন সন্ত্রস্ত ভাব!
- আরে অঘোর বাবু যে! আসুন আসুন কথা আছে!
- বাগান টা তো অন্ধকার করে রেখেছেন মশাই! আলো লাগাননি কেন?
- সেকি মশাই! আপনি তো এতকাল এখানে ছিলেন! আজ অন্ধকার এত গায়ে লাগছে কেন?
- অঘোরের চোখ দুটো দেখলাম অন্ধকারেও হিংস্র জন্তুর মত জ্বলে উঠল!
- কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন! আমাকে তাড়াতাড়ি যেতে হবে!
- কোথায়?
- এই প্রশ্নের উত্তরে অঘোর চমকে উঠল! বলল মানে? বাড়ি যাব!
- কেন? এটা বাড়ি নয়? আমি বলতে বলতে শয়তানটার উপর আরো ঝুঁকে এলাম! আজ যেন কি হয়েছে আমার? কথা গুলো আমি নয় অন্য কেউ আমাকে দিয়ে বলাচ্ছে!
- একটু ক্ষুণ্ণ হয়ে অঘোর বলে কি বলবেন কাজের কথা বলুন?
- এগ্রিমেন্টে আপনি একটা বিষয় এড়িয়ে গেছেন!
- কথাটা শুনে এত অবাক হয়ে গেল শয়তান টা যে কথা বলতে বলতে কখন যে কলতলায় পৌঁছে গেছি খেয়াল করতে পারল না!
- কোন বিষয় টা বলুন তো?
- আচ্ছা সরলা কে?
- এই প্রশ্ন টার জন্য মনে হয় প্রস্তুত ছিল না তেজারতি কারবার করা মানুষ টা! হাঁ করে আমার দিকে চেয়ে রইল! চারদিকে অসম্ভব নিঃস্তব্ধতা! পাকুড় গাছটায় হাওয়া বাতাস লেগেছে মনে হল! স্পষ্ট দেখলাম অঘোর এর পিছন থেকে উঠে যাওয়া পাকুড় গাছটা থেকে আস্তে আস্তে এক জোড়া পা শুন্যে ভাসতে ভাসতে নামছে! অঘোর ভয়ার্ত কন্ঠে এক চিৎকার করে পালাতে গেল ঘরের দিকে! আমি এই সুযোগ টারই অপেক্ষায় ছিলাম, জানোয়ার টাকে মারলাম এক ধাক্কা! মাটিতে পড়ে যেতেই রান্নাঘরের দরজা বন্ধ করে দিলাম! শুনলাম কুয়োর পাতটা ঝন ঝন করে খোলার আওয়াজ! বউ আর মেয়েকে বললাম - চল! কাজ শেষ! রহস্যে ঘেরা বাড়িটা ছেড়ে যখন বেরিয়ে আসছি পিছন থেকে অমানুষিক যন্ত্রণাকাতর মানুষের মরণ আর্তনাদ ভেসে আসছে! পকেট থেকে মোবাইল বের করে থানায় ফোন করতে গিয়েও হাত টা থেমে গেল! গেটের কাছে দাঁড়িয়ে সেই বাচ্চা মেয়েটি! আশ্চর্য এখন আর ভয় করছে না! হাঁটু গেড়ে বসে ছায়ামূর্তিটিকে বুকে জড়িয়ে নিলাম! ছায়া কায়া আজ এই পিতৃ হৃদয়ে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে! মেয়েটি আস্তে আস্তে আমার বুকে মিলিয়ে গেল আমার চোখের জলে ভেজা গাল টা ছুঁয়ে!! পিছনে তখন আর্তনাদ থেমে গেছে! গোটা বাড়িটাকে আস্তে আস্তে গ্রাস করছে মৃত্যু নৈঃশব্দ্য! আচমকা দমকে আমার বুক ফেটে কান্না বেরিয়ে এল! মেয়ের বুকে মুখ চেপে ডুকরে কেঁদে উঠলাম
- বিশ্বাস কর মা! তোর ব্যাথা লাগলে আমারো লাগে! ছায়া কায়া বুঝি না! আমি তো বাপ! তোকে আর কখনো বকবো না!.......কখনো না........!!!!!!!

ডাকটিকিট বা স্টাম্প

ডাকটিকিট বা  স্টাম্প                                                        পৃথিবীতে প্রথম কি ভাবে প্রচলন হলো আর কেমন ছিলো  *********...