ডাকটিকিট বা স্টাম্প
পৃথিবীতে প্রথম কি ভাবে প্রচলন হলো আর কেমন ছিলো ***********************************************
ডাক ব্যবস্থার প্রচলন বহু আগেই ॥ বলা যায় অতি প্রাচীন কালে। বহুকাল আগেই মানুষ চিঠি আদান প্রদানের জন্য ডাক প্রচলন করেছিলো । ইতিহাস বলছে 230 খ্রিষ্টপূর্বে ও ডাকের ব্যবহার ছিল। ভারতবর্ষে উচ্চ মানের ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন শেরশাহ॥ অতি পুরোনো কালেও - ডাকের উল্লেখ পাওয়া যায় এবং সেখানে লেখাথাকতো- দূতের নাম, প্রাপকের নাম, ডাক চলাচলের পথের নকশা ইত্যাদি। পরবর্তীতে ডাক ব্যবস্থার নানা পদ্ধতি চালু হয়। কিন্তু এইসব পদ্ধতি ছিল সনাতন। পূর্বের পদ্ধতি গুলোতে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিত। পরবর্তীতে ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বহু দেশে বহু মানুষ কাজ করেছেন। কিন্তু তখনকার চিঠিতে কোন ডাকটিকিট ব্যবহার করা হত না। চিঠিতে ডাকটিকিটের ব্যবহার শুরু হয় 1 মে 1840 সালে। এর আগে ডাক মাশুল আদায় করা হত চিঠির পাতার সংখ্যার উপর এবং কত দূরে চিঠি প্রেরণ করা হচ্ছে সেই দূরত্বের উপর ভিত্তি কড়ে । ডাক মাশুল দিতে হত চিঠির প্রাপক কে। কোন কারণে প্রাপক সেই চিঠি গ্রহণ না করলে বা ঠিকানা ভুল হলে - সেই চিঠি প্রাপকের কাছে না পৌঁছালে চিঠি প্রেরকের কাছে ফিরে আসতো। প্রেরককে তখন জরিমানা সহ ডাক মাশুল দিয়ে সে চিঠি ছাড়িয়ে নিত। অনেকেই এই প্রকার ফেরত আসা চিঠি গ্রহণ করতে চাইতেন না। এক সময় দেখা গেল ব্রিটিশ ডাক বিভাগের দপ্তরে ফেরত আসা চিঠি জমা হতে হতে স্তূপাকার ধারণ করে। এদিকে ডাক মাশুলের টাকা আদায় করতে না পেরে ব্রিটিশ ডাক প্রশাসন প্রচুর লোকসান হতে থাকে। দিন দিন বাড়ছিল চিঠি ফেরতের পরিমাণ। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল ডাক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তন হয় স্যার রোল্যান্ড হিলের হাত ধরে। তিনি সর্ব প্রথম ডাকটিকিট আবিষ্কার করেন।
বেশ কয়েকটি মজার ঘটনা থেকে তিনি ডাকটিকিটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি তাঁর প্রেমিকাকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন। এক দিন হলো কি ! ! - তিনি তাঁর প্রেমিকার চিঠির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কারন ঐ দিন তাঁর প্রেমিকার কাছ থেকে চিঠি আসার কথা ছিল। পিয়ন তাকে চিঠি দিয়ে ডাক মাশুলের জন্য এক শিলিং দিতে বললেন। তখনকার নিয়ম ছিল প্রাপক ডাক মাশুল পরিশোধ করবেন। তিনি ডাক মাশুল বাবদ এক শিলিং পরিশোধ করলেন। তখনকার দিনে এক শিলিং ডাক মাশুল হিসেবে অনেক টাকা। তিনি ভাবতে লাগলেন গতমাসে তিনি তাঁর প্রেমিকাকে 6 টি চিঠি লিখেছিলেন। তাই তাঁর প্রেমিকাকে ছয় শিলিং ডাক মাশুল পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি ব্যাপারটি চিন্তা করে মনে মনে অনুশোচনা করলেন। এর পরের মাস থেকে তিনি চিঠি লেখার পরিমাণ কমিয়ে দিলেন এবং কারণটা তিনি চিঠির মাধ্যমে তার প্রেমিকা কেও জানালেন। তিনি ভাবতে লাগলেন যিনি চিঠি লিখবেন ডাক মাশুল তাকেই পরিশোধ করা উচিত। আরেক টি ঘটনা। রোল্যান্ড হিল ছিলেন স্কুলের শিক্ষক। প্রতিদিন সকালেই তাকে স্কুলে যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হন। প্রতিদিনের মত সেদিন ও তিনি সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হয়েছেন - দেখলেন কি এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে পিয়নের ঝগড়া লেগেছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলেন কি ব্যাপার ? - পিয়ন জানালেন বৃদ্ধার ছেলে বৃদ্ধাকে চিঠি লিখেছে এবং বৃদ্ধা সেটা ছাড়িয়ে নিতে নারাজ। কারণ চিঠি ছাড়াতে হলে বৃদ্ধাকে তিন শিলিং খরচ করতে হবে। এবং বৃদ্ধা তা দেবেন না । তিনি বৃদ্ধার হয়ে তিন শিলিং দিয়ে চিঠি ছাড়িয়ে দিলেন। বৃদ্ধা বললেন তুমি বৃথাই তোমার তিন শিলিং নষ্ট করলে। চিঠির উপরে কিছু সাংকেতিক চিহ্ন রয়েছে যেগুলো দেখে আমি বুঝেছি চিঠিতে কি লেখা রয়েছে। এই ঘটনাটাও রোল্যান্ড হিল কে গভীর ভাবে নাড়া দেয়। কারণ এইভাবে জনগণ ডাক মাশুল ফাঁকি দিত। তিনি এই সমস্যার সমাধানের কথা ভাবতে লাগলেন। তিনি চাইছিলেন দীর্ঘদিনের পুরনো ডাক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসুক। তিনি প্রস্তাব রাখেন যে যিনি চিঠি লিখবেন তিনি ডাক মাশুল পরিশোধ করবেন। এই সকল বিষয় তিনি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করেন। 1837 সালে তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে POST OFFICE REFORM; ITS IMPORTANCE AND PRACTICABILITY নামক পুস্তক প্রকাশ পায়। এই বই প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। জনগণ চাইছিলেন যেন এই পদ্ধতি ডাক বিভাগ চালু হোক । বৃটিশ জনগণ আবেদন পত্র ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রেরণ করেতে শুরু করে। এই চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ডাকটিকিট প্রকাশের জন্য অনুমোদন দান করেন। ডাকটিকিটের জন্য নকশা আহবান করা হয়। প্রচুর মানুষ সেই আহবানে সাড়া দিয়ে নকশা জমা দিতে থাকে। দেখতে দেখতে 2500 টি নকশা ডাক বিভাগে জমা পড়ে। এত বিপুল সংখ্যক নকশার মধ্যে থেকে একটিও ডাক বিভাগের পছন্দ হয়নি। অবশেষে রোল্যান্ড হিলকেই নকশার জন্য বলা হয়। রোল্যান্ড হিল ভাবছিলেন কিভাবে ডাকটিকিটের নকশা করবেন। একটি মেডেল দেখে ডাকটিকিট তৈরির ধারণা পেয়ে যান। মেডেলে ছিল রাণী ভিক্টোরিয়ার ছবি খোদাই করা। তিনি ডাকটিকিটে রানি ভিক্টোরিয়ার প্রতিকৃতি ব্যবহার করতে চাইলেন। এই ডাকটিকিটের মাঝখানে ছিল রাণী ভিক্টোরিয়ার মুখমন্ডল ছবি। ডাকটিকিটের উপরে বড় করে লেখা ছিল POSTAGE এবং নিচের দিকে লেখা ছিল ONE PENNY. এছাড়া ডাকটিকিটের উপরে দুই কোনায় দুটি স্টার চিহ্ন এবং নিচে দুই কোনায় প্লেটের নম্বর অনুযায়ী বিভিন্ন অক্ষর ছিল। এই ডাকটিকিটে কোন দেশের নাম উল্লেখ ছিল না। কারণ তখন আর কোন দেশেই ডাকটিকিট ব্যবহার করা হত না। তাই দেশের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়তো না। এই ঘটনাকে সম্মান দেখিয়ে এখনো পর্যন্ত ব্রিটিশ ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত ডাকটিকিটে দেশের নাম লেখা থাকে না। এই ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় তখনকার বিখ্যাত প্রেস মেসার্স পারকিন্স বেকন এন্ড কোম্পানি। তারা এক পেনি ও দুই পেনি মূল্যমানের ডাকটিকিট ছাপাতেন। 11 এপ্রিল 1840 সালে তারা ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় এবং 1 মে 1840 সালে ডাকটিকিট চালু হয় । এক পেনির ডাকটিকেট কে ডাকা হত পেনি ব্লাক বলে কারণ এক পেনির ডাকটিকিট ছিল কালো রঙয়ের। আর দুই পেনি মূল্যের ডাকটিকিটকে ডাকা হত পেনি ব্লু নামে। কারণ এর রং ছিল নীল রঙয়ের। তখন ডাকটিকিট ক্যানসেল করা হত লাল কালি দিয়ে। এই লাল কালি পেনি ব্লাকের উপর বেশি স্থায়ী হত না। ফলে অনেকে লাল কালি ঘষে তুলে ফেলে তা আবার ব্যবহার করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পেনি ব্লাক পরিবর্তন করে ছাপানোর হয় লাল কালিতে। ফলে পেনি ব্লাক ডাক টিকিট এর নাম হয় - পেনি রেড।
এই ভাবেই এক মানুষ রোল্যণ্ড লি - তাঁকে বলা হয় - The Father of Postage stamps , সভ্যতার বুকে এক মহান নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি। সেই সুফল আজ আমরা ভোগ করছি । ডাকটিকিট মানব সভ্যতার এক্ বিশাল দান তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । ************************************************* নীচে - প্রথম ডাকটিকিট এর ছবি । facebook থেকে
পৃথিবীতে প্রথম কি ভাবে প্রচলন হলো আর কেমন ছিলো ***********************************************
ডাক ব্যবস্থার প্রচলন বহু আগেই ॥ বলা যায় অতি প্রাচীন কালে। বহুকাল আগেই মানুষ চিঠি আদান প্রদানের জন্য ডাক প্রচলন করেছিলো । ইতিহাস বলছে 230 খ্রিষ্টপূর্বে ও ডাকের ব্যবহার ছিল। ভারতবর্ষে উচ্চ মানের ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন শেরশাহ॥ অতি পুরোনো কালেও - ডাকের উল্লেখ পাওয়া যায় এবং সেখানে লেখাথাকতো- দূতের নাম, প্রাপকের নাম, ডাক চলাচলের পথের নকশা ইত্যাদি। পরবর্তীতে ডাক ব্যবস্থার নানা পদ্ধতি চালু হয়। কিন্তু এইসব পদ্ধতি ছিল সনাতন। পূর্বের পদ্ধতি গুলোতে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিত। পরবর্তীতে ডাক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বহু দেশে বহু মানুষ কাজ করেছেন। কিন্তু তখনকার চিঠিতে কোন ডাকটিকিট ব্যবহার করা হত না। চিঠিতে ডাকটিকিটের ব্যবহার শুরু হয় 1 মে 1840 সালে। এর আগে ডাক মাশুল আদায় করা হত চিঠির পাতার সংখ্যার উপর এবং কত দূরে চিঠি প্রেরণ করা হচ্ছে সেই দূরত্বের উপর ভিত্তি কড়ে । ডাক মাশুল দিতে হত চিঠির প্রাপক কে। কোন কারণে প্রাপক সেই চিঠি গ্রহণ না করলে বা ঠিকানা ভুল হলে - সেই চিঠি প্রাপকের কাছে না পৌঁছালে চিঠি প্রেরকের কাছে ফিরে আসতো। প্রেরককে তখন জরিমানা সহ ডাক মাশুল দিয়ে সে চিঠি ছাড়িয়ে নিত। অনেকেই এই প্রকার ফেরত আসা চিঠি গ্রহণ করতে চাইতেন না। এক সময় দেখা গেল ব্রিটিশ ডাক বিভাগের দপ্তরে ফেরত আসা চিঠি জমা হতে হতে স্তূপাকার ধারণ করে। এদিকে ডাক মাশুলের টাকা আদায় করতে না পেরে ব্রিটিশ ডাক প্রশাসন প্রচুর লোকসান হতে থাকে। দিন দিন বাড়ছিল চিঠি ফেরতের পরিমাণ। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন ছিল ডাক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। আর এই পরিবর্তন হয় স্যার রোল্যান্ড হিলের হাত ধরে। তিনি সর্ব প্রথম ডাকটিকিট আবিষ্কার করেন।
বেশ কয়েকটি মজার ঘটনা থেকে তিনি ডাকটিকিটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি তাঁর প্রেমিকাকে নিয়মিত চিঠি লিখতেন। এক দিন হলো কি ! ! - তিনি তাঁর প্রেমিকার চিঠির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কারন ঐ দিন তাঁর প্রেমিকার কাছ থেকে চিঠি আসার কথা ছিল। পিয়ন তাকে চিঠি দিয়ে ডাক মাশুলের জন্য এক শিলিং দিতে বললেন। তখনকার নিয়ম ছিল প্রাপক ডাক মাশুল পরিশোধ করবেন। তিনি ডাক মাশুল বাবদ এক শিলিং পরিশোধ করলেন। তখনকার দিনে এক শিলিং ডাক মাশুল হিসেবে অনেক টাকা। তিনি ভাবতে লাগলেন গতমাসে তিনি তাঁর প্রেমিকাকে 6 টি চিঠি লিখেছিলেন। তাই তাঁর প্রেমিকাকে ছয় শিলিং ডাক মাশুল পরিশোধ করতে হয়েছে। তিনি ব্যাপারটি চিন্তা করে মনে মনে অনুশোচনা করলেন। এর পরের মাস থেকে তিনি চিঠি লেখার পরিমাণ কমিয়ে দিলেন এবং কারণটা তিনি চিঠির মাধ্যমে তার প্রেমিকা কেও জানালেন। তিনি ভাবতে লাগলেন যিনি চিঠি লিখবেন ডাক মাশুল তাকেই পরিশোধ করা উচিত। আরেক টি ঘটনা। রোল্যান্ড হিল ছিলেন স্কুলের শিক্ষক। প্রতিদিন সকালেই তাকে স্কুলে যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে তিনি স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হন। প্রতিদিনের মত সেদিন ও তিনি সকালবেলা বাড়ি থেকে বের হয়েছেন - দেখলেন কি এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে পিয়নের ঝগড়া লেগেছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে জানতে চাইলেন কি ব্যাপার ? - পিয়ন জানালেন বৃদ্ধার ছেলে বৃদ্ধাকে চিঠি লিখেছে এবং বৃদ্ধা সেটা ছাড়িয়ে নিতে নারাজ। কারণ চিঠি ছাড়াতে হলে বৃদ্ধাকে তিন শিলিং খরচ করতে হবে। এবং বৃদ্ধা তা দেবেন না । তিনি বৃদ্ধার হয়ে তিন শিলিং দিয়ে চিঠি ছাড়িয়ে দিলেন। বৃদ্ধা বললেন তুমি বৃথাই তোমার তিন শিলিং নষ্ট করলে। চিঠির উপরে কিছু সাংকেতিক চিহ্ন রয়েছে যেগুলো দেখে আমি বুঝেছি চিঠিতে কি লেখা রয়েছে। এই ঘটনাটাও রোল্যান্ড হিল কে গভীর ভাবে নাড়া দেয়। কারণ এইভাবে জনগণ ডাক মাশুল ফাঁকি দিত। তিনি এই সমস্যার সমাধানের কথা ভাবতে লাগলেন। তিনি চাইছিলেন দীর্ঘদিনের পুরনো ডাক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসুক। তিনি প্রস্তাব রাখেন যে যিনি চিঠি লিখবেন তিনি ডাক মাশুল পরিশোধ করবেন। এই সকল বিষয় তিনি পুস্তিকা আকারে প্রকাশ করেন। 1837 সালে তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে POST OFFICE REFORM; ITS IMPORTANCE AND PRACTICABILITY নামক পুস্তক প্রকাশ পায়। এই বই প্রকাশের পর ব্যাপক সাড়া পড়ে। জনগণ চাইছিলেন যেন এই পদ্ধতি ডাক বিভাগ চালু হোক । বৃটিশ জনগণ আবেদন পত্র ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রেরণ করেতে শুরু করে। এই চাহিদার প্রেক্ষিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ডাকটিকিট প্রকাশের জন্য অনুমোদন দান করেন। ডাকটিকিটের জন্য নকশা আহবান করা হয়। প্রচুর মানুষ সেই আহবানে সাড়া দিয়ে নকশা জমা দিতে থাকে। দেখতে দেখতে 2500 টি নকশা ডাক বিভাগে জমা পড়ে। এত বিপুল সংখ্যক নকশার মধ্যে থেকে একটিও ডাক বিভাগের পছন্দ হয়নি। অবশেষে রোল্যান্ড হিলকেই নকশার জন্য বলা হয়। রোল্যান্ড হিল ভাবছিলেন কিভাবে ডাকটিকিটের নকশা করবেন। একটি মেডেল দেখে ডাকটিকিট তৈরির ধারণা পেয়ে যান। মেডেলে ছিল রাণী ভিক্টোরিয়ার ছবি খোদাই করা। তিনি ডাকটিকিটে রানি ভিক্টোরিয়ার প্রতিকৃতি ব্যবহার করতে চাইলেন। এই ডাকটিকিটের মাঝখানে ছিল রাণী ভিক্টোরিয়ার মুখমন্ডল ছবি। ডাকটিকিটের উপরে বড় করে লেখা ছিল POSTAGE এবং নিচের দিকে লেখা ছিল ONE PENNY. এছাড়া ডাকটিকিটের উপরে দুই কোনায় দুটি স্টার চিহ্ন এবং নিচে দুই কোনায় প্লেটের নম্বর অনুযায়ী বিভিন্ন অক্ষর ছিল। এই ডাকটিকিটে কোন দেশের নাম উল্লেখ ছিল না। কারণ তখন আর কোন দেশেই ডাকটিকিট ব্যবহার করা হত না। তাই দেশের নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়তো না। এই ঘটনাকে সম্মান দেখিয়ে এখনো পর্যন্ত ব্রিটিশ ডাক বিভাগ থেকে প্রকাশিত ডাকটিকিটে দেশের নাম লেখা থাকে না। এই ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় তখনকার বিখ্যাত প্রেস মেসার্স পারকিন্স বেকন এন্ড কোম্পানি। তারা এক পেনি ও দুই পেনি মূল্যমানের ডাকটিকিট ছাপাতেন। 11 এপ্রিল 1840 সালে তারা ডাকটিকিট ছাপানোর দায়িত্ব পায় এবং 1 মে 1840 সালে ডাকটিকিট চালু হয় । এক পেনির ডাকটিকেট কে ডাকা হত পেনি ব্লাক বলে কারণ এক পেনির ডাকটিকিট ছিল কালো রঙয়ের। আর দুই পেনি মূল্যের ডাকটিকিটকে ডাকা হত পেনি ব্লু নামে। কারণ এর রং ছিল নীল রঙয়ের। তখন ডাকটিকিট ক্যানসেল করা হত লাল কালি দিয়ে। এই লাল কালি পেনি ব্লাকের উপর বেশি স্থায়ী হত না। ফলে অনেকে লাল কালি ঘষে তুলে ফেলে তা আবার ব্যবহার করে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পেনি ব্লাক পরিবর্তন করে ছাপানোর হয় লাল কালিতে। ফলে পেনি ব্লাক ডাক টিকিট এর নাম হয় - পেনি রেড।
এই ভাবেই এক মানুষ রোল্যণ্ড লি - তাঁকে বলা হয় - The Father of Postage stamps , সভ্যতার বুকে এক মহান নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন তিনি। সেই সুফল আজ আমরা ভোগ করছি । ডাকটিকিট মানব সভ্যতার এক্ বিশাল দান তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না । ************************************************* নীচে - প্রথম ডাকটিকিট এর ছবি । facebook থেকে


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন