প্রসূন

জয়ন্ত ব্যানার্জি 

বাতাস দোলায় ফুল,
ফুলের গন্ধে,
প্রকৃতি ও মশগুল।। (1)
রিক্ত ঘরে জাগায় আশা
ফুলের গন্ধে
কাঙ্গালরাও মাতোয়ারা।। (2)
উদাস মনে আসে
অন্যমনস্কতা,
ফুলের গন্ধে
উবে যায় সব
রহস্যময়তা।। (3)
এতিমেরা কাঁদে পথে পথে,
প্রসূন মোহে
স্তনন যায় কমে।। (4)
ফুলের গন্ধে চারিদিক
সুবাসিত,
পতগের ফাঁদে
পরিমল নষ্ট।। (5)
ফুলের গন্ধে
সবাই গদগদ,
ফুল নাহি শোঁকে
নিজ গন্ধ।। (6)

পুরুষ থেকে মহিলা হয়ে ওঠার গল্প

 -----সৌমেন মণ্ডল

১ম পর্ব
মোহিত বাবু পেশায় একজন মনোবিদ; গত -সাত মাস হলো উনি এখানে এসেছেন এখানে মানে পুরুলিয়ায় কিছুদিন আগেও ওনার কাজ কর্মের জগত ছিল হাওড়া কোলকাতা কেন্দ্রিক বর্তমানে পুরুলিয়া; বাঁকুড়া তেই তিনি তাঁর চেম্বার শুরু করেছেন একেই পিছিয়ে পড়া জেলা তারপর আবার মনোবিদের চেম্বার বুঝতেই পারছেন পরিস্থিতি; এখানে মনোবিদের কাছে যাওয়া বা মনের কোন চিকিৎসা মানে পাগলের চিকিৎসা যদিও কিছু মানুষ সচেতন তবে তারা আবার লুকিয়ে আসতেই পছন্দ করেন ফলে প্রায় সকলেই আগাম মোহিত বাবুর সাথে কথা বলে একটি নির্জন সময়ের আশা করে এক দিন চেম্বার থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে সবে প্রিয়তমার সাথে হাল্কা প্রেমালাপে মেতেছে, এমন সময় ফোন টা বেজে উঠলো। প্রিয়তমার চোখে মুখের হাল্কা বিরক্তিকে এক প্রকার উপেক্ষা করেই ফোন টা ধরে
হ্যালো
হ্যা বলুন
ওপাশ থেকেস্যার এখন আপনার সাথে একবার দেখা করতে চাই
এখন আমি এই সবে
স্যার আমি আপনার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি বেশি সময় নেব না
এক প্রকার নিরুপায় হয়েই বললেনবেশ আসুন
ততক্ষনে প্রিয়তমার মুখে হাল্কা বিরক্তির রেখা বেশ গভীর হয়ে উঠেছে; কিন্তু কিছু করার নেই; অতিথি দরজা গোড়ায় দাঁড়িয়ে মোহিত বাবু ধীর গতিতে নিচে নেমে দরজা খুলে ওনাকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন দুজনে মখোমুখি চেয়ারে বসে ওনার বক্তব্য শুনতে চাইলেন
 উনি যা বললেন
আমার বাবা বয়স পঞ্চাশপঞ্চান্ন হবে; উনি প্রায় এক বছর হল মেয়ে হয়ে গেছে
শুনে মোহিতবাবু এক প্রকার চমকে উঠলেন কিন্তু নিজেকে সংযত করে বললেন- আমাকে পুরো বিষয়টা বুঝিয়ে বলো
ছেলেটি বলতে শুরু করলঃ
শুনেছি বাবা ছোটবেলা থেকেই খুব কৃষ্ণ ভক্ত কাজের ফাঁকে পুরো সময়টাই উনি পূজার্চনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকতেন বাবা মেয়ে হবার এক মাস আগে থেকেই মাকে বলে ছিলেন ভগবান তাঁকে দেখা দিয়েছেন তিনি আর সংসার জীবনে থাকবেন না; এবার তিনি শ্রী কৃষ্ণের সখি হয়ে বাকি জীবন টা কাটিয়ে দেবেন এর পর মাঝে মাঝেই বাবার ভর হত আর বাবা কৃষ্ণের সখির মত আচরন করত; গ্রামের সবাই বলতরাধাবাবার ওপর ভর করেছে সবাই তখন বাবা কে প্রনাম করত এভাবেই ধীরে ধীরেবাবা পুরোরাধাহয়ে গেছে
এই পর্যন্ত বলে ছেলেটি চুপ করে গেল
মোহিতবাবু গম্ভীর ভাবে বললেন- ‘হু বুঝলাম তবে তুমি আমার কাছে কেন? সেটা তো বুঝলাম না
আমার এক স্যার বলেছিলেন এটা কোন ভগবান পাওয়া নয়; এটা নাকি এক ধরনের অসুখ; চিকিৎসায় সেরে যায় মায়ের সাথে আলোচনা করে উনিই আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন আপনি যদি আমাদের এই ব্যাপারে …’
মোহিত বাবু আবার গম্ভীর ভাবে- ‘হুম; ঠিক আছে আজ তুমি বাড়ি যাও; কাল সকালে একবার আমার চেম্বারে এসো বলে আজকের মত ছেলে টাকে বিদায় দিল
২য় পর্ব
কথা মত পরের দিন সকালে ছেলেটি এসে হাজির
মোহিত বাবু ছেলেটি কে বসতে বলে জানতে চাইলেন
তুমি যে এখানে এসেছো সেটা তোমার বাড়ির কে কে জানে?
ছেলেটি- আমি; মা আর স্যার ছাড়া কেউ জানেনা
মোহিত বাবুতুমি কি করো?
স্যার আমি B.S.C. 1st year. J.K.College, পুরুলিয়া
মোহিত বাবুবা ভাল, পড়াশোনা টা চালিয়ে যাও বাবা কি করেন?
বাবা আগে একটা স্কুলে পড়াত এখন আর যায় না
মোহিত বাবু- তোমাদের চলে কি করে?
ওইতো বাবার কাছে সবাই পূজা দিতে আসে; ওখান থেকে যা আসে আমাদের ভালো ভাবেই চলে যায়
মোহিত বাবু- ঠিক আছে; চলো আমি তোমাদের বাড়ি যাবো তবে ওখানে আমার পরিচয় হবে; আমি তোমার স্যার
ছেলেটি মোহিত বাবুর নির্দেশ বুঝলেন এবং ওনা কে নিয়ে তার বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন
গ্রামে প্রবেশ করলে যে কারো বুঝতে অসুবিধা হবে না যে অত্যন্ত গরিব এই গ্রাম আসার পথে যে গ্রাম গুলির মধ্যদিয়ে আসছিলেন সে গ্রাম গুলির অবস্থাও প্রাই একই রকম
ছেলেটি যখন মোহিত বাবু কে নিয়ে তাদের বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ালো; তখন বিস্ময়ে মোহিত বাবু ছেলেটি কে জিজ্ঞাসা করলেন… ‘এটা তোমাদের বাড়ি?’ ছেলেটি মুচকি হেসে উত্তর দিলেন মোহিত বাবু মনে মনে ভাবলেন এত মরুভুমির মাঝে জল ভরা দিঘি এর পর ছেলেটির সাথে বাড়ির মধ্যে যেতে গিয়ে মোহিত বাবু খেয়াল করলেন একটি জায়গায় প্রায় ২০-২৫ জন মানুষের ভিড় মোহিত বাবু দাঁড়িয়ে পড়লেন ছেলেটির কাছে জানতে চাইলেন ‘ওখানে কিসের ভিড়?’ ছেলেটি বললো ওখানেই আমাদের কৃষ্ণ মন্দির বাবা পূজা করছে; ওরা পূজা দিতে এসেছে। মোহিত বাবু জানতে চাইলেন রোজ এই রকম ভিড় হয় কি না? উত্তর এলো কোন কোন দিন এর থেকে বেশি ভিড় োহয়। মোহিত বাবু মনে মনে ভাবলেন অদ্ভুত ব্যাপার... এতোদিন হোমো সেক্স এর ব্যাপারে জেনেছি দেখেছি কিন্তু... এখানে কি তা হলে হোম সেক্সের সাথে অন্য কোন ডিসঅডার ও আছে! ছেলে বললো ‘স্যর ভেতরে চলুন’। মোহিত বাবু বললেন- আগে তোমার বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দাও; পরে ভেতরে যাবো। মোহিত বাবুর কথা মতো ছেলেটি তাঁর বাবার সাথে পরিচয় করাতে গেলেন। ছেলেটি মোহিত বাবুকে নিয়ে ভক্তদের পাস কাটিয়ে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলেন। মন্দিরের ভেতরে গিয়ে ছেলেটি বাবা বলে ডাকতেই দুই মহিলা তীব্র আপত্তি জানিয়ে বললেন কতবার বলেছি উনি আর তোমার বাবা নেই। উনি এখন কৃষ্ণের সহচরি ‘শ্রী রাধে’ তুমি উনাকে মা বলে ডেক। তখনি ওর বাবা মেয়েলি কণ্ঠে; মেয়েলি ঢঙ্গে মমতাময়ী রূপে বলে উঠলেন –‘আ সখি ছারো না ও বাচ্ছা ছেলে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। বলো বাবা কিছু বলবে আমায়?’ ছেলেটি অসহায় ভাবে মোহিত বাবুকে দেখিয়ে বললেন ‘উনি আমার স্যার’ বলে চুপ করে গেলো। তথা কথিত ‘শ্রী রাধে’ তখন বলে উঠলেন-‘শ্রী কৃষ্ণ তোমার মঙ্গল করবে’। মোহিত বাবু তখন ওনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন হ্যান্ডশেক করার জন্য; শ্রী রাধে তখন খুব সাধারণ ভাবেই হাতটা বাড়িয়ে দিলেন; মোহিত বাবু হ্যান্ডশেক করার অছিলায় ‘শ্রী রাধে’ কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন সে নিজেও হোমো। কিন্তু ‘শ্রী রাধে’ মোহিত বাবুর ইঙ্গিত না বুঝেই ছেলেকে অতিথি আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করতে বললেন। এর পর মোহিত বাবু গল্পের ছলে উপস্থিত ভক্ত দের সাথে ও বাড়ির অন্য দের সাথে কথা বলে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করলেন। এর পর ছেলেটি কে ডেকে পরের দিন বিকালে চেম্বারে আসতে বলে ওখান থেকে চলে এলেন।    
     ৩য় পর্ব।।
মোহিত বাবু বাড়িতো ফিরে এলেন কিন্তু কোন ভাবেই এই বিষয়টা থেকে বেরতে পারছিলেন না তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না এটা কি ধরনের সমস্যা উনি যদি হোমো হতেন তাহলে মোহিত বাবুর ইঙ্গিত উনি অবশ্যই বুঝতেন আবার সর্ব সময়ের দুটি মহিলা সঙ্গীকিন্তু বাকি সমস্থ আচরনের মধ্যে হোমো সেক্সের লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে; অন্য কোন সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার নেই এই ব্যপারে মোহিত বাবু এক প্রকার নিশ্চিত এই অস্থির পরিস্থিতিতে মোহিত বাবু কিছু সম্ভাব্য পড়াশোনা করলেন; কিন্তু কোন সমাধান সূত্র খুযে পেলেন না এমন সময় তাঁর এক কোলকাতার বাঙ্গুর হাসপাতালের কাউন্সেলার বান্ধবি কে ফোন করে সমস্ত বিষয়টা বললেন বান্ধবি সমস্ত বিষয়টা শুনে বললেন- ‘ওই লোকটা নাটক করছেনাতো? দেখ আমাদের হসপিটালে অনেক হিজরে আসে চিকিৎসার করানোর জন্য; আমি প্রথমের দিকে তাদের হিজরা বলেই জানতাম; অনেক পড়ে বুঝেছিলাম তাড়া সবাই হিজরা নয়; তাদের মধ্যে অনেকেই আছে পুরুষ কিন্তু তাড়া না বললে আমি কখনোই বুঝতে পারতাম না আরো কিছু কথাবার্তার পর দুজনে ফোন রাখলেন তখনি মোহিত বাবুর মনে পরলোশ্রী রাধে স্ত্রী কথা উনি বলেছিলেন ওঁদের দাম্পত্য জীবণ খুব একটা ভালো ছিল না বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে ওনার কোন গোপণ সম্পর্ক আছে বলে তিনি সন্ধেহ করতেন; কিন্তু এর কোন প্রমান নেই
৪র্থ পর্ব।।
পরের দিন বিকালে ছেলেটি চেম্বারে আসতেই ছেলেটিকে গোপনে মোহিত বাবু কিছু তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে বললেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই ছেলেটি সমস্ত তথ্য নিয়ে হাজির; তথ্য পেয়ে মোহিত বাবু বেশ খুশি হলেন। তার পরের দিন সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে মোহিত বাবু হাজির হলেন ‘শ্রী রাধে’-র বাড়ি।
মোহিত বাবু ‘শ্রী রাধে’-র মন্দিরে গিয়ে প্রথমে ‘শ্রী রাধে’কে করজোরে প্রনাম করে বললেন ‘প্রভু আমার কিছু নিবেদন আছে যদি শোনেন বড় উপকার হয়’।
‘শ্রী রাধে’ মেয়েলি কণ্ঠে বললেন- বলো বাবা আমি তোমার কি উপকার করতে পারি।
মোহিত বাবু- প্রভু আমার মন বড় অস্থির; আমি একান্তে আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই যদি অনুমতি দেন।
‘শ্রী রাধে’ তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং একান্তে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলেন। মোহিত বাবু সাথে সাথে তাঁর হাত টা ধরে আবার হোমো সেক্সের ইঙ্গিত করলেন। এই বার ‘শ্রী রাধে’ মোহিত বাবুর ইঙ্গিতে সারা দিলেন তখনি মোহিত বাবু আবেগে গদগদ হয়ে বললেন ‘প্রভু আমি আপনার জন্য কয়েকটা ছবি এনেছি দেখবেন’? ‘শ্রী রাধে’ রাজি হতেই মোহিত বাবু আগে থেকে সাজিয়ে রাখা কিছু ছবি দেখাতে লাগলেন; খুব সুন্দর সুন্দর নারী- পুরুষের নগ্ন ছবি। একটি ছেলে একটি মেয়ে এই ভাবে দেখাতে দেখাতে শেষে শুধুই ছেলের ছবি। মোহিত বাবু খেয়াল করছিলেন নগ্ন মেয়ের ছবি দেখে ‘শ্রী রাধে’-র দুটি চোখ কেমন উজ্জল হয়ে উঠছিল। শুধু ছেলের ছবি দেখতে দেখতে ‘শ্রী রাধে’ চিৎকার করে বললেন ‘শ্রী রাধে’ কে এই সব দেখানোর সাহস কি করে পেলেন আপনি? তখন মুচকি হেসে মোহিত বাবু বললেন- গলা নামিয়ে ‘শ্রী রাধে’ আপনার সমস্ত নাটক আমি জেনে গেছি। এখন আপনিই বলুন সবার সামনে আমি আপনার মুখোস টা খুলে দেব না আপনি আমার কাছে সব দোষ স্বীকার করবেন?
কি জেনেছেন আপনি?
এই বেশি কিছুনা; গত এক বছরে আপনি শতাধিক নারীর সাথে কৃষ্ণ সেজে সহবাস করেছেন।
এই কথা শুনে ‘শ্রী রাধে’ একে বারে চুপ; চোখে মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট; আরষ্ঠ গলায় বললেন আমি বলছি-
আমি ছোট থেকেই ভীষন কামুক এক পুরুষ; বহু নারীর সাথে সহবাস করেছি। পড়ে বাড়ির কাজের মেয়ের সাথেও জড়িয়ে পরি কিন্তু তাতেও আমার সাধ মিটছিল না; ওর সাথেই আলোচনা করে আমরা এই পথ বেছে নিই; কারণ এই পথে কেউ সন্দেহতো করবেই না বরং শ্রদ্ধা করবে। কিছু দিন পর ওর এক বিধবা মাসতুতো বোনকে ও এখানে নিয়ে আসে। ওরাই এখন আমার সব সময়ের সঙ্গী। কিন্তু এভাবে চলবে কি করে; রোজগার না করলে তো না খেতে পেয়ে মরে যাবো। তাই প্রথমে তাবিজ মাদুলি দেওয়া শুরু করি। কয়েক দিনের মধ্যেই দেখি সন্তানহীন মেয়েরা সন্তানের আসায় আসতে শুরু করে তাদের কয়েক জন কে দেখে আমার সহবাসের ইচ্ছা জাগে। তখনি আমি রটিয়ে দিই এখানে রাত্রিতে থেকে কোন মহিলা যদি কৃষ্ণের প্রসাদ ধারণ করে তবে তাদের সন্তান হবে...     
*****
  

ডাকটিকিট বা স্টাম্প

ডাকটিকিট বা  স্টাম্প                                                        পৃথিবীতে প্রথম কি ভাবে প্রচলন হলো আর কেমন ছিলো  *********...