দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ


Tanmoy Shome

16 june ......................আজ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর তিরোধান দিবস । এর লেখনীর মধ্যে দিয়ে পণ্ডিত,ভদ্র রাজনীতিবিদ, বিখ্যাত ব্যরিস্টার ও নেতাজীর গুরু কে ফুলেল শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করি । মাত্র 54 বছরের জীবন আর সেই জীবনে তিনি মহান হয়ে আছেন বাঙ্গালীর মধ্যে।রাজনীতি করতেন দেশের সেবার কথা ভেবে আর তাই কোন আপোষ করতেন না তিনি । ১৮৭০ সালের ৫ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ভূবনমোহন দাশ, তিনি কলকাতা হাইকোর্টে ‘সলিসিটার ছিলেন।চিত্তরঞ্জন ১৮৮৫ সালে তিনি এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাস করেন ও প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৯০ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ইংল্যান্ডে যান ও ১৮৯৪ সালে ব্যারিস্টার হয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন । কলকাতা হাইকোর্টে ব্যারিস্টার হিসাবে সুনাম অর্জন করেন এবং আলীপুর বোমা মামলায় অভিযুক্ত শ্রী অরবিন্দ ঘোষ ও অনন্যারা বিপ্লবীদের হয়ে মামলায় নৈপুণ্যের পরিচয় দেন এবং রাজ-শক্তি অরবিন্দ ও অন্য বিপ্লবীদের বেকসুর খালাস দিতে বাধ্য হয় ।এছাড়া তিনি ঢাকা ষড়যন্ত্র মামলার (১৯১০-১১) বিবাদি পক্ষের কৌশলী ছিলেন
তাঁর রাজনৈতিক জীবন খুবই ছোট কিনতু তার প্রভাব বিস্তর । বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ও অনুশীলন সমিতির মতো গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি নিজে কে যুক্ত করেন। অসহযোগ আন্দোলণে নিজে কে যুক্ত করেন গান্ধীর আহ্ববাণে আর পুরোপুরি আইনজীবীর পেশা পরিত্যাগ করেন । কিনতু ১৯২১ সালে যখন আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করেন তখন সি.আর দাশ তার তীব্র সমালোচনা করেন ও বিষয়টি গুরুতর ভুল ও দেশের পক্ষে ক্ষতিকর বলে নিন্দা করেন ও গাঁধী জির অদূরদর্শীতার নিন্দায় মুখর হন ।এছাড়া কংগ্রেসের আইন পরিষদ বর্জনের নীতিকে দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করেন। তিনি মনে করতেন যে, সরকারকে অবিচল, অবিচ্ছিন্ন ও দৃঢ়ভাবে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আইন পরিষদে প্রবেশাধিকার অর্জন করা অবশ্যই দরকার । ১৯২২ সালের ডিসেম্বর মাসে গয়ায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে পরিষদে প্রবেশ সংক্রান্ত তাঁর এই প্রস্তাব গৃহীত না হলে তিনি অতঃপর কংগ্রেসের সভাপতির পদে ইস্তফা দেন ।...1922 সালে তিনি মতিলাল নেহরু, হাকিম আজমল খান, আলী ভ্রাতৃদ্বয় ও অন্যান্যদের সহযোগিতায় কংগ্রেসের অভ্যন্তরে "স্বরাজ্য দল" এর ভিত্তি স্থাপন করেন। ১৯২৩ সালে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় বিধান পরিষদের নির্বাচনে স্বরাজ দল উল্লেখযোগ্য বিজয় ঘটে।
দেশবন্ধুর অভিমত ছিল যে, বঙ্গীয় আইন পরিষদ এ বলিষ্ঠ গ্রুপ সৃষ্টিকারী মুসলিম সদস্যদের আন্তরিক সহযোগিতা ব্যতিরেকে স্বরাজবাদীদের বাধাদানের নীতি সফল হবে না। বস্ত্তত, দৃঢ় প্রত্যয় ও বিশ্বাসসহ তিনি ছিলেন রাজনৈতিক বাস্তববাদী এবং প্রচন্ড বিরোধিতার মুখেও তিনি নিজ অবস্থান থেকে কখনও বিচ্যুত হতেন না। তিনি নিজে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জ্বলন্ত অগ্রদূত ছিলেন ।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যে অবস্থান নিয়েছিল, সি.আর দাশ তার সমালোচনা করে ঘোষণা করেন: ‘তোমরা সভার সিদ্ধান্তসমূহ থেকে বেঙ্গল প্যাক্টকে মুছে ফেলতে পার, কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস থেকে বাংলাকে বাদ দিতে পারবে না...এ রকম শিষ্টাচারহীন রীতিতে বাংলাকে মুছে ফেলা যাবে না। যার দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ ছিলেন হিন্দু-মুসলিম মিলনের এক অগ্রদূত আর সেই ভাবধারা বহন করেছিলেন নেতাজী সুভাষ । দেশবন্ধু অনুভব করতেন যে বাঙলাকে অখণ্ড রেখে শান্তিপূর্ণ- সহাবস্থান চাই আর তা করতে হলে হিন্দু-মুসলমানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতার প্রয়োজন। এই জন্যে ১৯২৩ সালে সিরাজগঞ্জে সভাতে তাঁর বিখ্যাত হিন্দু-মুসলিম চুক্তি (বেঙ্গল প্যাক্ট) সম্পাদন করেন। এই চুক্তিতে সবার সম অধিকার প্রতিষ্ঠার শর্ত ও নিয়মাবলি ছিলো।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের নির্দেশে বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তিটি তৈরি করেছিলেন নেতাজী সুভাষ বসু ।
১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল সুভাষ বসু তাঁর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের পাশে থেকে তাঁর সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সুভাষ বসু ছিলেন দেশবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি। . .. তাঁর স্বরাজ্য দল ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিজয়ী হয় ও তিনি মেয়র নির্বাচিত হন এবং তিনিই প্রথম বাঙ্গলী মেয়র ।
1925 সালে কংগ্রেস অধিবেশন শেষ করে দার্জিলিং যাবার পথে 16 জুন হঠাত্ ই মৃত্যূ ঘটে এই মহান বাঙ্গালির ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ডাকটিকিট বা স্টাম্প

ডাকটিকিট বা  স্টাম্প                                                        পৃথিবীতে প্রথম কি ভাবে প্রচলন হলো আর কেমন ছিলো  *********...