পায়েল খাঁড়া
বাপের খোঁটা আর মায়ের আক্ষেপগুলো শুনতে শুনতে অসহ্য হয়েই লেখার খাতাগুলো রদ্দির দোকানে বেচতে গিয়েছিল অতীন।
-মিডিল ক্লাসের ছেলে কোথায় মুখে দুটো ভাত তোলার জোগাড় করবি; তা নয় বাপের ঘাড়ে খাচ্ছেন আর দিন রাত কাব্যি ফলাচ্ছেন—কুলাঙ্গার কোথাকার’ বাবার কথাগুলো তখনও অতীনের কানে বাজছিল আর ঝাঁঝরা করে দিচ্ছিল ওর স্নায়ুকে।
খাতাগুলোকে পাল্লায় চাপিয়ে মনে হল__কাগজ নয় যেন নিজের কলজেটাকেই বুক থেকে উপড়ে ওজনযন্ত্রে রেখেছে।
দোকানদার পঞ্চাশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল আপনার খাতাগুলোর দাম। একটা মুখ ভেসে উঠল অতীনের সামনে,
-অতীনদা তুমি একদিন খুব বড় লেখক হবে, আমার বিশ্বাস।
পনের বছর পর—অতীনের হাতে সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার তুলে দিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন