অরিন্দম নন্দি
প্রবাসী দীপঙ্কর সান্যাল নিজের আজন্ম পরিচিত স্টেশনের চৌহদ্দি তে পা রেখেই বুঝতে পারল প্রবাস শুধু তার জীবন থেকে অমূল্য কতগুলি বছর বিস্মৃতির অতলে নিয়ে যায় নি, নিজের নাড়ির টান এর বিপরীতেও এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিল! সরু ফ্রেমের চশমাটা দামী রুমালে আলতো করে মুছে কোটের সামনের পকেটে ঢুকিয়ে রাখে! চোখ বুজে বুক ভরে এক লম্বা শ্বাস নেয়! বুকের ভেতরটা আভিজাত্যের হাওয়া যেন বিদ্রুপ করে ওঠে! মুকুন্দপুর স্টেশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই দীর্ঘশ্বাস রণিত হয়ে ওঠে! কানে ভাসে রামদাস কাকার তেলেভাজার দোকান থেকে সেই হাঁক!
- গরম সিংগারা গরম! ১ টাকা পিস! খাবেন আর খাবেন! হেই সিংগারা গরম........
- কোথায় যাবেন বাবু?...... আচমকা কন্ঠস্বরে অন্যমনস্কতায় ছেদ পড়ে! এক টোটো গাড়ি ডাকছে তাকে!
- কোথায় যাবেন? আবারো শুধায়!
- আচ্ছা স্টেশন টা এত পরিবর্তন হল কবে থেকে??? প্রশ্ন টা আনমনে জিজ্ঞাসা করেই বুঝতে পারল ভুল জায়গায় প্রশ্ন নিক্ষেপ করেছেন! পরমূহুর্তেই নিজেকে সামলে বলেন সান্যাল বাড়ী যাব!
- কোথায় যাবেন বললেন?
- সান্যাল বাড়ী? ওমপ্রকাশ আর জয়প্রকাশ সান্যালের বাড়ী! কেন? চেননা?
- কথাটা বলতে বলতে একটা জিনিষ দীপঙ্কর লক্ষ করলেন কোনো এক অজানা আতংকে টোটো ড্রাইভারের মুখ পাংশু হয়ে উঠেছে! ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞাসা করল আপনি কে মশাই? কোথা থেকে আসছেন? প্রশ্নটা করেই উত্তরের অপেক্ষা না করে টোটো নিয়ে নিমেষে হাওয়া হয়ে যায়! কিংকর্তব্যবিমূঢ় দীপঙ্কর দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ হতভম্বের মত!
- যাহ বাবা হল কি? এরকমভাবে পালাল কেন? এদিক ওদিক তাকাতে নজর এল স্টেশনমাস্টার একজনের সংগে কথা বলতে বলতে আসছেন। দীপঙ্কর তার কাছে সটান গিয়ে শুধায় আচ্ছা দাদা এখানে কি কোন গাড়ি ঘোড়া পাওয়া যাবে না? এখন তো সবে বিকেল পাঁচটা! কিছুই তো দেখছি না!
- মশাই তো দেখছি রীতিমত সাহেব! তা কোথা থেকে আসা হচ্ছে শুনি?
- আমেরিকা!
- ঢোক গিলতে বিষম খেলেন স্টেশনমাস্টার! বলেন অ! তা যাবেন কোথায়?
- সান্যাল বাড়ী!
- যেটা প্রত্যাশাও করেননি দীপঙ্কর সান্যাল সেটাই হল! স্টেশনমাস্টার আতংকে হনুমান চালিশা বের করে দিলেন ছুট!
- দীপঙ্কর এই শীতেও ঘামতে লাগলেন! কি ব্যাপার? সান্যাল বাড়ীর নাম শুনলেই সবাই এরকম ভয়ে পালাচ্ছে কেন? একসময় এই বাড়ীর যথেষ্ট নামডাক ছিল মুকুন্দপুরে! হবে না কেন? ওমপ্রকাশ তার কাকা ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর আর বাবা জয়প্রকাশ ছিলেন পুলিশের বড় কর্তা! এহেন প্রভাবশালী পরিবেশে বেড়ে ওঠা তার! ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছে বড় বড় শিল্পপতি, অভিনেতা, রাজনৈতিক প্রভাবশালী দের! বাড়ীতে একটা ছোটখাটো ভিড় লেগেই থাকত! মা রঞ্জনা সান্যাল ছিলেন অসাধারণ সংগীত শিল্পী! সুরে মাতোয়ারা করে তুলতে পারতেন! পরিবারে দুই ভাইয়ের ভালবাসা ছিল দেখার মত! ওমপ্রকাশ রঞ্জনাকে মাতৃ জ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন! আর দীপঙ্কর কাকা বলতে অজ্ঞান ছিল! কত জায়গায় কাকা তাকে নিয়ে ঘুরতে যেত! কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই ভাইয়ের সম্পর্কটা তলানিতে এসে ঠেকেছিল! কারণ টা দীপঙ্কর আজো ঠাহর করতে পারেনা! প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে দেখত মা কাকার ঘরে দরজা বন্ধ করে কি সব কথা বলত! তারপরেই সে তার মাকে হাপুস নয়নে কাঁদতে দেখত! ছোট্ট বালক কিছু বুঝতে না পেরে থম মেরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নিজের ক্লান্ত শরীর টাকে নিজের ঘরের দিকে টেনে নিয়ে যেত! বিশাল অট্টালিকার কোণায় কোণায় দীর্ঘশ্বাস এর বিষবাষ্প বয়ে যেত! কতদিন হয়েছে ছোট্ট দীপু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে! তারপর মাঝরাতে কপালে কার একটা নরম স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভেঙে দেখে মা খাবারের থালা হাতে দাঁড়িয়ে আছে! চোখে জল! অবোধ বালক কিছু না বুঝে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলত মা বড় হলে তোমাকে আর কষ্ট করতে দেবনা দেখো! মা তাকে আরো বেশি করে বুকের ওমে জড়িয়ে ধরে কাঁদত! বাবা অনেক রাতে বাড়ি ফিরত! মাঝে মাঝে সে শুনতে পেত কাকার সাথে উন্মত্ত কন্ঠে কথা কাটাকাটি! জিনিষপত্র ভাংচুরের আওয়াজ! একদিন সে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনছিল মা বাবার কথাবার্তা
- খোকাকে আর এখানে রাখব না! আমেরিকার স্কুলে ভর্তি করে দেব ঠিক করেছি!
- সেকি! খোকাকে ছেড়ে আমি বাঁচব কি করে? আমি মরে যাব!
- রঞ্জু! প্লিজ পাগলামি কোরোনা! খোকার ভবিষ্যৎ চিন্তা কর! এখানে এই পরিবেশে আর কতদিন ভাল থাকবে ও! বাবা হয়ে সন্তানকে এই পরিবেশে মরতে দিতে পারি না!
- ওগো প্লিজ!.............
- না!! জয়প্রকাশ কথা রাখেননি! একসপ্তাহের মাথাতেই ছোট্ট দীপুকে নিয়ে বিমান উড়ে গিয়েছিল গন্তব্যে!
-....... কোথায় যাবেন দাদা???? সম্বিৎ ফেরে দীপঙ্কর এর! দেখে এক ভ্যানওয়ালা তার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে! আবারো শুধায় যাবেন কোথায়?
- সান্যাল ভিলা! শোনার পরেই একটা চাপা আতংক তাকে গ্রাস করল!
- একশো দেব! মরিয়া হয়ে দীপঙ্কর বলল! নিয়ে চল!
- পনেরো মিনিটের পাথেয় একশো!!! গরীবের কাছে অনেক বেশি! নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বেও রাজি হয়ে যায় সে! কিন্তু শর্ত রাখে গন্তব্যের একটু আগেই সে নামিয়ে দেবে!
- একটু অবাক হল দীপঙ্কর! কি ব্যাপার বল তো? তোমরা সবাই সান্যাল বাড়ির নাম শুনে এত ভয় পাচ্ছ কেন? কি হয়েছে কি?
- আমি জানি না বাবু! ভ্যানে উঠুন! সন্ধের আগে পৌঁছাতে হবে! আমার অন্য জায়গায় ভাড়া আছে!
- ভ্যানে ওঠার সাথে ভ্যান দ্রুত গতিতে স্টেশনের পাকা রাস্তা ছেড়ে কাঁচা রাস্তা ধরল! সেই আজন্ম পরিচিত পথ ধরে যেতে যেতে কত ঘুমানো স্মৃতি মনের কোনায় ভিড় করে এল! রামদুলালের আম বাগানে বন্ধুদের সাথে আম চুরি করা,দত্তদের পুকুরে মাছ ধরা এই ত সেদিনের কথা বলে মনে হয় তার! কতদিন তার মায়ের হাতের চিংড়ি পোস্ত খায়নি সে!
- এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন ভ্যান থেমে গেছে টের পায়নি সে!
- নামুন বাবু! আর এগোতে পারব না! ভ্যানওয়ালার কন্ঠে একটা চাপা আতংক! তড়িঘড়ি দীপঙ্কর ওকে ১০০ টাকার নোট দিয়ে ভ্যান থেকে নেমে পড়ল! ইতিমধ্যেই চারদিক বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে! ভালো করে চেয়ে দেখল জায়গাটা বেশ জংলা হয়ে গেছে! একটু দূরে অন্ধকারের মধ্যেই সে স্পষ্ট দেখল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সান্যাল ভিলা! সেই পুরনো গেট! সেই পুরনো আভিজাত্যে! ভ্যানচালক চলে যেতে যেতে আবারো একটি বার ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করল- আপনি কি সত্যি আজ রাত কাটাবেন ওখানে? দীপঙ্কর জবাব না দিয়ে এগিয়ে গেল পায়ে পায়ে সান্যাল ভিলার দিকে! চারদিকের বড় বড় গাছ থেকে পাখিদের অজস্র কিচিরমিচির শব্দ ভেসে আসছে! অজানা ফুলের গন্ধে চারদিক মাতোয়ারা! একটানা ঝিঁঝিঁ ডেকে চলেছে কোথাও! স্মৃতি ভারাক্রান্ত মনে বিশাল মেইন গেটের সামনে এসে দাঁড়াল সান্যাল ভিলার একমাত্র উত্তরসূরি!! তখনই ঘটল অভাবনীয় কান্ডটি! গেট টি আচমকা সশব্দে খুলে গেল আপনা থেকেই! একটু অবাক হল সে! হরিদাকেও তো দেখছে না আশেপাশে! গেট টা খুলল কে? সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে চৌহদ্দির ভিতরে প্রবেশ করতেই মেন গেট সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল আগের মতই! নিজের জন্মভিটেতে দাঁড়িয়েও এই শীতে ঘামতে লাগল সে! কি হচ্ছে এসব?
- মা! ও মা! মা গো! কোথায় তুমি??? আলো টা একটু জ্বালো! আমি এসেছি!
- দীপঙ্কর সান্যালের কণ্ঠস্বর যেন বিদ্রুপের প্রতিধ্বনি হয়ে বিশাল অট্টালিকার কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ল! কেউ এলনা!
- বাবা! বাবা! কাকুমণি! কোথায় তোমরা??? আমি এসেছি!!! তোমাদের দীপু! আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব!
- কেউ এগিয়ে এলনা! নির্জন অট্টালিকা র প্রবেশদ্বারে একা দীপুর বুক ফেটে কান্না এল! তাহলে কি কেউ নেই এখানে? কেউ কি থাকেনা এখানে? দরজার কাছে এগোতেই অবাক কান্ড! আপনা থেকেই খুলে গেল দ্বার!! মাকড়শারজাল এ ঢাকা পাকদণ্ডী সিঁড়ি উঠে গেছে মাঝখান থেকে! মনে পড়ে শৈশবে কতবার মা এই সিঁড়িতে বসে ভাত খাইয়ে দিয়েছে! আজ আর কিছু নেই! আচমকা চোখ গেল পাশের টেবিলের উপর সাজানো প্লেটের উপর! রেকাবি তে ঢাকা দেওয়া জলের গ্লাসের পাশে কয়েকটি সন্দেশ রাখা আছে! ক্ষিদে তৃষ্ণায় তাই খেয়ে নিল! মা রাখত ঠিক এই ভাবে! স্কুল থেকে ফিরে প্রতিদিন এই অভ্যাস দীপুর মজ্জাগত হয়ে পড়েছিল! কিন্তু মা বাবা কাকুমণিকে দেখতে পাচ্ছে না কেন সে? ধুলোয় ভরা সিঁড়িতে পা রেখে তার মনটা কেঁপে উঠল অজানা আশংকায়! বাড়ির মানুষ গুলোর কিছু হয়নি তো? ধীরে ধীরে উঠে নিজের সেই আবাল্য পরিচিত ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল দীপু! সামনের লম্বা করিডরের দুই প্রান্ত খাঁখাঁ করছে নির্জনতা!
- মা! মা! কোথায় তুমি? তোমরা কোথায়??? দেখতে পাচ্ছি না কেন তোমাদের?
- দীপঙ্কর এর কথা গুলো এই নিঝুম পুরীতে ব্যর্থ পরিহাসের মত শোনায়! কেউ এগিয়ে এলনা এতকাল বাদে ফেরা ঘরের ছেলেকে আপন করে নিতে!
- বাইরে কি সুন্দর পূর্ণিমা র চাঁদ উঠেছে! আলোয় ভেসে যাচ্ছে চারদিক! ক্লান্ত অবসন্ন শরীর টাকে টেনে হিঁচড়ে শোবার ঘরের দিকে নিয়ে যায় দীপঙ্কর সান্যাল! কিন্তু ঢুকবার মুখে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্থির হয়ে যায় সে! দোতলা থেকে নীচে ডাইনিং টেবলের দিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে যায় সে! থরে থরে খাবার সাজান! আর খাবারের একটা ডিশের দিকে তার চোখের তারা একদম স্থির হয়ে যায়! তার আজন্মের প্রিয় খাবার চিংড়ি পোস্ত! খুশিতে দীপু চিৎকার করে ওঠে - মা! মাগো! আমি তোমার হাতে খাব! এস না প্লিজ! খুব খিদে পেয়েছে!
- কেউ আসল না! এই শুন্য পুরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা দীপুকে গ্রাস করল! অগত্যা সে নিজেই সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগল! কয়েকটা ধাপ সে নেমেছে, আচমকা সে অনুভব করল তার ঘাড়ের কাছে কার যেন নরম কোমল মমতাস্পর্শ!!! এই স্পর্শ আগেও সে অনেক বার অনুভব করেছে! তার সত্তার সাথে মিশে গেছে এই ঘ্রাণ! সে তার ক্ষুধার্ত শরীর টাকে নিয়ে একটা চেয়ারে বসল! এত বড় ডাইনিং টেবলে সে একা! অতীতে কত ভালবাসা, কত মান অভিমানের ঝড় বয়ে গেছে এখানে! দীপুর বুক ফেটে কান্না এল! আচমকা সে অনুভব করল তার চুল গুলো কে যেন নরম আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে! নাকে মুখে কিসের যেন নরম স্নিগ্ধ একটা স্পর্শ অনুভব করল! আচমকা তার শরীরে একটা শিহরণ বয়ে গেল! এত তার মায়ের বুকের গন্ধ! মা-ই তো তার মাথায় বিলি কেটে দিত এভাবে! সে দেখল আপনা থেকেই চিংড়ি পোস্তর রেকাবিটা তার দিকে একটু এগিয়ে আসছে! দীপু অভিমানে রাগে দুঃখে শোকে তাপে মা-আ-আ-আ বলে চিৎকার করে উঠল! একটা অদৃশ্য সত্তা যেন আরো বেশি করে তাকে জড়িয়ে ধরেছে! চাঁদের আলোতে যেন ভেসে যাচ্ছে গোটা অন্দরমহল! চোখের জল ফেলতে ফেলতেই খাওয়া কোনরকমে শেষ করে উঠতে যাবে আচমকা রান্নাঘরের দিক থেকে একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল
- খোকা! হাত ধুয়ে নে!
- নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না সে! এত তার মায়ের গলা! তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গিয়ে দেখে কল থেকে আপনা আপনি জল পড়ে যাচ্ছে! হাত ধুয়ে সে নিজের ঘরে এসে বিছানায় চুপ করে বসে রইল! সারারাত সে চুপ করে বসেই থাকবে!!! তার মা আরো একবার তাকে বুকে জড়িয়ে ধরুক! দেখা নাই বা দিল! অশরীরী দেখা যায় না যে! তার একটুও ভয় করছে না এখন! তার বাবা র সাথে অনেক কথা বাকি রয়ে গেছে যে! কাকুমণির সাথে গল্প কে করবে সে ছাড়া! এই ফেরা তো তার ঘরে ফেরা! আস্তে আস্তে সে চন্দ্রালোকিত শুন্য ন্যাড়া ব্যালকনির দিকে পা বাড়াল! পিছনে সেই ঘাড়ের কাছে অমোঘ স্নেহস্পর্শ! বাগানে নির্জন রজনীগন্ধা গাছটির উপর মাতাল বাতাস খেলা করে বেড়াচ্ছে আপনমনে! দীপুকে তার মায়ের স্নেহ মেশানো আঁচলেই ফিরে যেতে হবে! আস্তে আস্তে সে বাঁ পা টা বাড়িয়ে দিল শূন্যে!!!! একটা রাত পেঁচা অন্ধকারের বুক চিরে উড়ে গেল রহস্যে ঘেরা সান্যাল ভিলার উপর দিয়ে! তাকেও বোধ করি নিজের গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে সময় শেষ হবার আগেই..........!!!!
প্রবাসী দীপঙ্কর সান্যাল নিজের আজন্ম পরিচিত স্টেশনের চৌহদ্দি তে পা রেখেই বুঝতে পারল প্রবাস শুধু তার জীবন থেকে অমূল্য কতগুলি বছর বিস্মৃতির অতলে নিয়ে যায় নি, নিজের নাড়ির টান এর বিপরীতেও এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিল! সরু ফ্রেমের চশমাটা দামী রুমালে আলতো করে মুছে কোটের সামনের পকেটে ঢুকিয়ে রাখে! চোখ বুজে বুক ভরে এক লম্বা শ্বাস নেয়! বুকের ভেতরটা আভিজাত্যের হাওয়া যেন বিদ্রুপ করে ওঠে! মুকুন্দপুর স্টেশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই দীর্ঘশ্বাস রণিত হয়ে ওঠে! কানে ভাসে রামদাস কাকার তেলেভাজার দোকান থেকে সেই হাঁক!
- গরম সিংগারা গরম! ১ টাকা পিস! খাবেন আর খাবেন! হেই সিংগারা গরম........
- কোথায় যাবেন বাবু?...... আচমকা কন্ঠস্বরে অন্যমনস্কতায় ছেদ পড়ে! এক টোটো গাড়ি ডাকছে তাকে!
- কোথায় যাবেন? আবারো শুধায়!
- আচ্ছা স্টেশন টা এত পরিবর্তন হল কবে থেকে??? প্রশ্ন টা আনমনে জিজ্ঞাসা করেই বুঝতে পারল ভুল জায়গায় প্রশ্ন নিক্ষেপ করেছেন! পরমূহুর্তেই নিজেকে সামলে বলেন সান্যাল বাড়ী যাব!
- কোথায় যাবেন বললেন?
- সান্যাল বাড়ী? ওমপ্রকাশ আর জয়প্রকাশ সান্যালের বাড়ী! কেন? চেননা?
- কথাটা বলতে বলতে একটা জিনিষ দীপঙ্কর লক্ষ করলেন কোনো এক অজানা আতংকে টোটো ড্রাইভারের মুখ পাংশু হয়ে উঠেছে! ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞাসা করল আপনি কে মশাই? কোথা থেকে আসছেন? প্রশ্নটা করেই উত্তরের অপেক্ষা না করে টোটো নিয়ে নিমেষে হাওয়া হয়ে যায়! কিংকর্তব্যবিমূঢ় দীপঙ্কর দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ হতভম্বের মত!
- যাহ বাবা হল কি? এরকমভাবে পালাল কেন? এদিক ওদিক তাকাতে নজর এল স্টেশনমাস্টার একজনের সংগে কথা বলতে বলতে আসছেন। দীপঙ্কর তার কাছে সটান গিয়ে শুধায় আচ্ছা দাদা এখানে কি কোন গাড়ি ঘোড়া পাওয়া যাবে না? এখন তো সবে বিকেল পাঁচটা! কিছুই তো দেখছি না!
- মশাই তো দেখছি রীতিমত সাহেব! তা কোথা থেকে আসা হচ্ছে শুনি?
- আমেরিকা!
- ঢোক গিলতে বিষম খেলেন স্টেশনমাস্টার! বলেন অ! তা যাবেন কোথায়?
- সান্যাল বাড়ী!
- যেটা প্রত্যাশাও করেননি দীপঙ্কর সান্যাল সেটাই হল! স্টেশনমাস্টার আতংকে হনুমান চালিশা বের করে দিলেন ছুট!
- দীপঙ্কর এই শীতেও ঘামতে লাগলেন! কি ব্যাপার? সান্যাল বাড়ীর নাম শুনলেই সবাই এরকম ভয়ে পালাচ্ছে কেন? একসময় এই বাড়ীর যথেষ্ট নামডাক ছিল মুকুন্দপুরে! হবে না কেন? ওমপ্রকাশ তার কাকা ছিলেন স্থানীয় কাউন্সিলর আর বাবা জয়প্রকাশ ছিলেন পুলিশের বড় কর্তা! এহেন প্রভাবশালী পরিবেশে বেড়ে ওঠা তার! ছোট বেলা থেকে দেখে এসেছে বড় বড় শিল্পপতি, অভিনেতা, রাজনৈতিক প্রভাবশালী দের! বাড়ীতে একটা ছোটখাটো ভিড় লেগেই থাকত! মা রঞ্জনা সান্যাল ছিলেন অসাধারণ সংগীত শিল্পী! সুরে মাতোয়ারা করে তুলতে পারতেন! পরিবারে দুই ভাইয়ের ভালবাসা ছিল দেখার মত! ওমপ্রকাশ রঞ্জনাকে মাতৃ জ্ঞানে শ্রদ্ধা করতেন! আর দীপঙ্কর কাকা বলতে অজ্ঞান ছিল! কত জায়গায় কাকা তাকে নিয়ে ঘুরতে যেত! কিন্তু পরবর্তী সময়ে দুই ভাইয়ের সম্পর্কটা তলানিতে এসে ঠেকেছিল! কারণ টা দীপঙ্কর আজো ঠাহর করতে পারেনা! প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে সে দেখত মা কাকার ঘরে দরজা বন্ধ করে কি সব কথা বলত! তারপরেই সে তার মাকে হাপুস নয়নে কাঁদতে দেখত! ছোট্ট বালক কিছু বুঝতে না পেরে থম মেরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে নিজের ক্লান্ত শরীর টাকে নিজের ঘরের দিকে টেনে নিয়ে যেত! বিশাল অট্টালিকার কোণায় কোণায় দীর্ঘশ্বাস এর বিষবাষ্প বয়ে যেত! কতদিন হয়েছে ছোট্ট দীপু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে! তারপর মাঝরাতে কপালে কার একটা নরম স্পর্শ পেয়ে ঘুম ভেঙে দেখে মা খাবারের থালা হাতে দাঁড়িয়ে আছে! চোখে জল! অবোধ বালক কিছু না বুঝে মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলত মা বড় হলে তোমাকে আর কষ্ট করতে দেবনা দেখো! মা তাকে আরো বেশি করে বুকের ওমে জড়িয়ে ধরে কাঁদত! বাবা অনেক রাতে বাড়ি ফিরত! মাঝে মাঝে সে শুনতে পেত কাকার সাথে উন্মত্ত কন্ঠে কথা কাটাকাটি! জিনিষপত্র ভাংচুরের আওয়াজ! একদিন সে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে শুনছিল মা বাবার কথাবার্তা
- খোকাকে আর এখানে রাখব না! আমেরিকার স্কুলে ভর্তি করে দেব ঠিক করেছি!
- সেকি! খোকাকে ছেড়ে আমি বাঁচব কি করে? আমি মরে যাব!
- রঞ্জু! প্লিজ পাগলামি কোরোনা! খোকার ভবিষ্যৎ চিন্তা কর! এখানে এই পরিবেশে আর কতদিন ভাল থাকবে ও! বাবা হয়ে সন্তানকে এই পরিবেশে মরতে দিতে পারি না!
- ওগো প্লিজ!.............
- না!! জয়প্রকাশ কথা রাখেননি! একসপ্তাহের মাথাতেই ছোট্ট দীপুকে নিয়ে বিমান উড়ে গিয়েছিল গন্তব্যে!
-....... কোথায় যাবেন দাদা???? সম্বিৎ ফেরে দীপঙ্কর এর! দেখে এক ভ্যানওয়ালা তার দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে! আবারো শুধায় যাবেন কোথায়?
- সান্যাল ভিলা! শোনার পরেই একটা চাপা আতংক তাকে গ্রাস করল!
- একশো দেব! মরিয়া হয়ে দীপঙ্কর বলল! নিয়ে চল!
- পনেরো মিনিটের পাথেয় একশো!!! গরীবের কাছে অনেক বেশি! নিতান্ত অনিচ্ছা সত্বেও রাজি হয়ে যায় সে! কিন্তু শর্ত রাখে গন্তব্যের একটু আগেই সে নামিয়ে দেবে!
- একটু অবাক হল দীপঙ্কর! কি ব্যাপার বল তো? তোমরা সবাই সান্যাল বাড়ির নাম শুনে এত ভয় পাচ্ছ কেন? কি হয়েছে কি?
- আমি জানি না বাবু! ভ্যানে উঠুন! সন্ধের আগে পৌঁছাতে হবে! আমার অন্য জায়গায় ভাড়া আছে!
- ভ্যানে ওঠার সাথে ভ্যান দ্রুত গতিতে স্টেশনের পাকা রাস্তা ছেড়ে কাঁচা রাস্তা ধরল! সেই আজন্ম পরিচিত পথ ধরে যেতে যেতে কত ঘুমানো স্মৃতি মনের কোনায় ভিড় করে এল! রামদুলালের আম বাগানে বন্ধুদের সাথে আম চুরি করা,দত্তদের পুকুরে মাছ ধরা এই ত সেদিনের কথা বলে মনে হয় তার! কতদিন তার মায়ের হাতের চিংড়ি পোস্ত খায়নি সে!
- এসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন ভ্যান থেমে গেছে টের পায়নি সে!
- নামুন বাবু! আর এগোতে পারব না! ভ্যানওয়ালার কন্ঠে একটা চাপা আতংক! তড়িঘড়ি দীপঙ্কর ওকে ১০০ টাকার নোট দিয়ে ভ্যান থেকে নেমে পড়ল! ইতিমধ্যেই চারদিক বেশ অন্ধকার হয়ে এসেছে! ভালো করে চেয়ে দেখল জায়গাটা বেশ জংলা হয়ে গেছে! একটু দূরে অন্ধকারের মধ্যেই সে স্পষ্ট দেখল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সান্যাল ভিলা! সেই পুরনো গেট! সেই পুরনো আভিজাত্যে! ভ্যানচালক চলে যেতে যেতে আবারো একটি বার ভয়ার্ত গলায় জিজ্ঞেস করল- আপনি কি সত্যি আজ রাত কাটাবেন ওখানে? দীপঙ্কর জবাব না দিয়ে এগিয়ে গেল পায়ে পায়ে সান্যাল ভিলার দিকে! চারদিকের বড় বড় গাছ থেকে পাখিদের অজস্র কিচিরমিচির শব্দ ভেসে আসছে! অজানা ফুলের গন্ধে চারদিক মাতোয়ারা! একটানা ঝিঁঝিঁ ডেকে চলেছে কোথাও! স্মৃতি ভারাক্রান্ত মনে বিশাল মেইন গেটের সামনে এসে দাঁড়াল সান্যাল ভিলার একমাত্র উত্তরসূরি!! তখনই ঘটল অভাবনীয় কান্ডটি! গেট টি আচমকা সশব্দে খুলে গেল আপনা থেকেই! একটু অবাক হল সে! হরিদাকেও তো দেখছে না আশেপাশে! গেট টা খুলল কে? সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে চৌহদ্দির ভিতরে প্রবেশ করতেই মেন গেট সশব্দে বন্ধ হয়ে গেল আগের মতই! নিজের জন্মভিটেতে দাঁড়িয়েও এই শীতে ঘামতে লাগল সে! কি হচ্ছে এসব?
- মা! ও মা! মা গো! কোথায় তুমি??? আলো টা একটু জ্বালো! আমি এসেছি!
- দীপঙ্কর সান্যালের কণ্ঠস্বর যেন বিদ্রুপের প্রতিধ্বনি হয়ে বিশাল অট্টালিকার কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ল! কেউ এলনা!
- বাবা! বাবা! কাকুমণি! কোথায় তোমরা??? আমি এসেছি!!! তোমাদের দীপু! আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকব!
- কেউ এগিয়ে এলনা! নির্জন অট্টালিকা র প্রবেশদ্বারে একা দীপুর বুক ফেটে কান্না এল! তাহলে কি কেউ নেই এখানে? কেউ কি থাকেনা এখানে? দরজার কাছে এগোতেই অবাক কান্ড! আপনা থেকেই খুলে গেল দ্বার!! মাকড়শারজাল এ ঢাকা পাকদণ্ডী সিঁড়ি উঠে গেছে মাঝখান থেকে! মনে পড়ে শৈশবে কতবার মা এই সিঁড়িতে বসে ভাত খাইয়ে দিয়েছে! আজ আর কিছু নেই! আচমকা চোখ গেল পাশের টেবিলের উপর সাজানো প্লেটের উপর! রেকাবি তে ঢাকা দেওয়া জলের গ্লাসের পাশে কয়েকটি সন্দেশ রাখা আছে! ক্ষিদে তৃষ্ণায় তাই খেয়ে নিল! মা রাখত ঠিক এই ভাবে! স্কুল থেকে ফিরে প্রতিদিন এই অভ্যাস দীপুর মজ্জাগত হয়ে পড়েছিল! কিন্তু মা বাবা কাকুমণিকে দেখতে পাচ্ছে না কেন সে? ধুলোয় ভরা সিঁড়িতে পা রেখে তার মনটা কেঁপে উঠল অজানা আশংকায়! বাড়ির মানুষ গুলোর কিছু হয়নি তো? ধীরে ধীরে উঠে নিজের সেই আবাল্য পরিচিত ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল দীপু! সামনের লম্বা করিডরের দুই প্রান্ত খাঁখাঁ করছে নির্জনতা!
- মা! মা! কোথায় তুমি? তোমরা কোথায়??? দেখতে পাচ্ছি না কেন তোমাদের?
- দীপঙ্কর এর কথা গুলো এই নিঝুম পুরীতে ব্যর্থ পরিহাসের মত শোনায়! কেউ এগিয়ে এলনা এতকাল বাদে ফেরা ঘরের ছেলেকে আপন করে নিতে!
- বাইরে কি সুন্দর পূর্ণিমা র চাঁদ উঠেছে! আলোয় ভেসে যাচ্ছে চারদিক! ক্লান্ত অবসন্ন শরীর টাকে টেনে হিঁচড়ে শোবার ঘরের দিকে নিয়ে যায় দীপঙ্কর সান্যাল! কিন্তু ঢুকবার মুখে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে স্থির হয়ে যায় সে! দোতলা থেকে নীচে ডাইনিং টেবলের দিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে যায় সে! থরে থরে খাবার সাজান! আর খাবারের একটা ডিশের দিকে তার চোখের তারা একদম স্থির হয়ে যায়! তার আজন্মের প্রিয় খাবার চিংড়ি পোস্ত! খুশিতে দীপু চিৎকার করে ওঠে - মা! মাগো! আমি তোমার হাতে খাব! এস না প্লিজ! খুব খিদে পেয়েছে!
- কেউ আসল না! এই শুন্য পুরীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা দীপুকে গ্রাস করল! অগত্যা সে নিজেই সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে লাগল! কয়েকটা ধাপ সে নেমেছে, আচমকা সে অনুভব করল তার ঘাড়ের কাছে কার যেন নরম কোমল মমতাস্পর্শ!!! এই স্পর্শ আগেও সে অনেক বার অনুভব করেছে! তার সত্তার সাথে মিশে গেছে এই ঘ্রাণ! সে তার ক্ষুধার্ত শরীর টাকে নিয়ে একটা চেয়ারে বসল! এত বড় ডাইনিং টেবলে সে একা! অতীতে কত ভালবাসা, কত মান অভিমানের ঝড় বয়ে গেছে এখানে! দীপুর বুক ফেটে কান্না এল! আচমকা সে অনুভব করল তার চুল গুলো কে যেন নরম আঙুল দিয়ে বিলি কেটে দিচ্ছে! নাকে মুখে কিসের যেন নরম স্নিগ্ধ একটা স্পর্শ অনুভব করল! আচমকা তার শরীরে একটা শিহরণ বয়ে গেল! এত তার মায়ের বুকের গন্ধ! মা-ই তো তার মাথায় বিলি কেটে দিত এভাবে! সে দেখল আপনা থেকেই চিংড়ি পোস্তর রেকাবিটা তার দিকে একটু এগিয়ে আসছে! দীপু অভিমানে রাগে দুঃখে শোকে তাপে মা-আ-আ-আ বলে চিৎকার করে উঠল! একটা অদৃশ্য সত্তা যেন আরো বেশি করে তাকে জড়িয়ে ধরেছে! চাঁদের আলোতে যেন ভেসে যাচ্ছে গোটা অন্দরমহল! চোখের জল ফেলতে ফেলতেই খাওয়া কোনরকমে শেষ করে উঠতে যাবে আচমকা রান্নাঘরের দিক থেকে একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল
- খোকা! হাত ধুয়ে নে!
- নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না সে! এত তার মায়ের গলা! তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গিয়ে দেখে কল থেকে আপনা আপনি জল পড়ে যাচ্ছে! হাত ধুয়ে সে নিজের ঘরে এসে বিছানায় চুপ করে বসে রইল! সারারাত সে চুপ করে বসেই থাকবে!!! তার মা আরো একবার তাকে বুকে জড়িয়ে ধরুক! দেখা নাই বা দিল! অশরীরী দেখা যায় না যে! তার একটুও ভয় করছে না এখন! তার বাবা র সাথে অনেক কথা বাকি রয়ে গেছে যে! কাকুমণির সাথে গল্প কে করবে সে ছাড়া! এই ফেরা তো তার ঘরে ফেরা! আস্তে আস্তে সে চন্দ্রালোকিত শুন্য ন্যাড়া ব্যালকনির দিকে পা বাড়াল! পিছনে সেই ঘাড়ের কাছে অমোঘ স্নেহস্পর্শ! বাগানে নির্জন রজনীগন্ধা গাছটির উপর মাতাল বাতাস খেলা করে বেড়াচ্ছে আপনমনে! দীপুকে তার মায়ের স্নেহ মেশানো আঁচলেই ফিরে যেতে হবে! আস্তে আস্তে সে বাঁ পা টা বাড়িয়ে দিল শূন্যে!!!! একটা রাত পেঁচা অন্ধকারের বুক চিরে উড়ে গেল রহস্যে ঘেরা সান্যাল ভিলার উপর দিয়ে! তাকেও বোধ করি নিজের গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে সময় শেষ হবার আগেই..........!!!!

এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুন