......সৌমেন মণ্ডল
দু বছর হল আমি কলেজ পাশ করে বাড়িতে
আছি
একেবারে বাড়িতে বসে আছি তা না...
ওই একটা কম্পিউটারের ছোট খাট কোর্স করছি।
বুঝতেই পারছেন; আধবুড়ি মেয়ে বাড়িতে বসে থাকলে…।
পাড়ার লোকের তো গুঞ্জনের শেষ নেই
কালকেই তো ও পাড়ার মেজো কাকি পাড়ার
বৌ-দের কাছে
কি সব ফিসফিস করছিল
আমাকে দেখে চুপ করে গেল।
মায়ের এই চাপেই নাকি সুগার বেড়েছে
বাবা তো আপদ বিদায় করলেই বাঁচে ।
কয়েক বার দেখা-শোনা এসেছে
বাড়ি থেকেও চাপ দিচ্ছে
শুধু আমি রাজি হইনি...
রাজি হলেই সব শেষ।।
যখন আমি বিয়ের কথা ভাবি...
ভাবি কোন পুরুষ আমায় জড়িয়ে ধরছে
তখন আমি ভয়ে; ঘৃণায়; কষ্টে পাগল হয়ে উঠি।
মনে পড়ে যায় যখন আমি ক্লাস ফোর-এ আঁকা
শিখতে যেতাম
স্যার আমাকে একা ঘরের মধ্যে আঁকা শেখাত
আর
গোটা শরীরে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতো
আমি তোমার বাবার মতো...
তখন আমার বমি পেত।
ক্লাস নাইন-এ স্যারের কাছে পড়তে গেলে
স্যার যখন তাঁর মোবাইলে নোংরা
ভিডিও দেখিয়ে বলত
এই রকম আমি আমার বৌ কে করি
তোমার কিছু হচ্ছে না?
তখন মনে মনে ভাবতাম ‘এই তুমি পুরুষ’
ক্লাস টুয়েল্ভ-এ যখন গানের টিচার আমার গলার
নতুন হারের লকেট দেখতে গিয়ে ...
বুকের মধ্যে হাত ভরে দিয়েছিল
তখন আমি আর চুপ থাকতে পারিনি
রাগে; ঘৃণায়; প্রতিবাদে চিৎকার করে বলেছিলাম
এই আপনারা পুরুষ!
আমার মধ্যে একবার আপনার মেয়ে কে দেখতে পেলেন না
বেড়িয়ে যান; এখান থেকে বেড়িয়ে যান বলছি...
তখন মা এসে গম্ভীর ভাবে বলেছিল
একথা আর কেউ না জানে ...
পাঁচ কান হলে তোমার আর বিয়ে দিতে পারবো না।
বিশ্বাস করুন তখন আমার রূপ; যৌবনে ভরা
এই তরতাজা শরীরটা আমার কাছে বোঝা হয়ে উঠেছিল।
তখন একদিন হঠাত্ই অনু এলো আমাদের বাড়িতে
অনু আমার কলেজের বান্ধবী
ও সব শুনে আমাকে ওর বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেছিল
ওর বুকের মধ্যে মাথা রেখে নিমেষে আমার সব কষ্ট দূর হল
মনে হলো এই প্রথম আমার মধ্যে কেউ নারী স্বত্বা জাগিয়ে দিল ।।
***

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন